সম্প্রতি, ‘পূর্বের মামলায় গ্রে//ফতার জনাব তারেক রহমান ভিডিও দেখুন কমেন্টে’ শীর্ষক একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, তারেক রহমান গ্রেফতার হওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফেসবুকের উক্ত দাবির কতিপয় পোস্টে একটি ব্লগপোস্টের লিংক সূত্র হিসেবে দেওয়া হয়েছে। রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে ‘shadhinn71.blogspot.com/2025/12/blog-post_25.html’ নামের ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইনের এই সাইটটি একটি ভূঁইফোড় সাইট বলে প্রতীয়মান হয়। সাইটে ‘পূর্বের মামলায় র্যাবের হাতে গ্রেফতার তারেক রহমান’ শীর্ষক কথিত দাবির বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদটির প্রকাশকাল হিসেবে ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ উল্লেখ রয়েছে।

উক্ত সংবাদে সংযুক্ত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটি অনুসন্ধানে, অন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘CNN’ এর ওয়েবসাইটে ২০১২ সালের ১৮ মার্চ ‘Bangladesh ex-premier’s son among 30 people indicted in grenade attack’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এটি ২০০৭ সালের ৮ মার্চ তারেক রহমানকে আদালতে হাজিরের ছবি। এছাড়াও সংবাদে ভিডিও দাবিতে একটি স্ক্রিনশট সংযুক্ত করা হয় যাতে ক্লিক করলে বিভিন্ন জুয়ার সাইটে নিয়ে যায়।

কথিত এই সংবাদে দাবি করা হয়, ‘পূর্বে দায়ের করা একটি মামলায় র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাবের বরাতে বলা হয়, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক অভিযোগে মামলা চলমান ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এর আগে সংশ্লিষ্ট মামলাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। মামলার সঙ্গে একটি বড় জনসমাবেশ ও সহিংসতার অভিযোগ যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বরাতে বলা হয়, তদন্তের স্বার্থেই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। র্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত তারেক রহমানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে গ্রেফতারের খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গ্রেফতার হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে উক্ত বিষয়ে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে ঢালাওভাবে সংবাদ প্রচার হতো। তবে, দেশের কোনো গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রচার হতে দেখা যায়নি। ২৮ ডিসেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান তারেক রহমান।
উল্লেখ্য, ফ্রি ডোমেইনের ব্লগসাইট ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর এই পদ্ধতি গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। রিউমর স্ক্যানারের ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে বেরিয়ে এসেছে এসব সাইটের পেছনে কারা আছেন, কারাই বা এসব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং কাদের এসব অপতথ্যের শিকার বানানো হচ্ছে।
সুতরাং, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গ্রেফতারের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- BSS: দেশে ফিরে প্রথমবার গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমান
- Rumor Scanner’s own analysis


