চরমোনাই পীর ফয়জুল করিমকে তারেক রহমান ফোন করেছেন দাবিতে একাধিক গণমাধ্যমে নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জরুরী ফোনকল করেছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক গণমাধ্যমের লোগো ও ডিজাইন সম্বলিত ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।

এসব ফটোকার্ডের মধ্যে ইত্তেফাকের নামে দুটি ভিন্ন এবং প্রথম আলো, যুগান্তর, জনকণ্ঠ, বার্তা বাজারের নামে একটি করে ‘ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীরকে তারেক রহমানের জরুরী ফোন’ শিরোনামে ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।

আমার দেশের নামে ‘মুফতি ফয়জুল করীমকে তারেক রহমানের জরুরি ফোন!’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।

যমুনা টিভির নামে ‘ইসলামী আন্দোলনের হাই কমান্ডকে তারেক রহমানের জরুরি ফোন!’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।

সময় টিভির নামে ‘ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমিরকে হঠাৎ জরুরি ফোন তারেক রহমানের।’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া অবধি টিকটকে প্রচারিত সর্বাধিক ভাইরাল ভিডিওটি প্রায় ৪২ হাজার বার দেখা হয়েছে, এটিতে প্রায় ১ হাজার পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমকে তারেক রহমান ফোনকল করেছেন দাবিতে উল্লিখিত গণমাধ্যমগুলো এরূপ কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রচার করেনি৷ প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় এসব গণমাধ্যমের প্রচলিত ফটোকার্ডের ডিজাইনের আদলে ফটোকার্ড তৈরি করে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পৃথকভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার।

ইত্তেফাকের ফটোকার্ড যাচাই

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ড দুটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এগুলোতে ইত্তেফাকের লোগো রয়েছে।

উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে ইত্তেফাকের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, ইত্তেফাকের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামের ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, আলোচিত দাবিতে ফয়জুল করিম ও তারেক রহমানের ভিন্ন ভিন্ন ছবি যুক্ত করে ইত্তেফাকের লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।

প্রথম আলোর ফটোকার্ড যাচাই

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে প্রথম আলোর লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘১৪ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা রয়েছে।

উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সংবলিত কোনো ফটোকার্ড বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, প্রথম আলোর ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবি সম্বলিত কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বরং, প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে গত ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি পোস্টে আলোচিত ফটোকার্ডটির ছবি সংযুক্ত করে উল্লেখ করা হয় যে প্রথম আলোর নামে ছড়ানো উক্ত ছবি ও তথ্য ভুয়া এবং এটি তাদের তৈরি নয়।

অর্থাৎ, আলোচিত দাবিতে প্রথম আলোর লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।

যুগান্তরের ফটোকার্ড যাচাই 

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটিতে যুগান্তরের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘১৪ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা রয়েছে।

উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে যুগান্তরের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, যুগান্তরের ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, যুগান্তরের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামের ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, আলোচিত দাবিতে যুগান্তরের লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।

জনকণ্ঠের ফটোকার্ড যাচাই

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে জনকন্ঠের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ‘১৩ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে জনকন্ঠের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, জনকন্ঠের ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, জনকন্ঠের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামের ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, আলোচিত দাবিতে জনকণ্ঠের লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।

বার্তা বাজারের ফটোকার্ড যাচাই

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে বার্তা বাজারের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ‘১৪ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে বার্তা বাজারের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বার্তা বাজারের ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, বার্তা বাজারের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামের ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, আলোচিত দাবিতে বার্তা বাজারের লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।

আমার দেশের ফটোকার্ড যাচাই

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে আমার দেশের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ‘১৪ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে আমার দেশের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, আমার দেশের ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, আমার দেশের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামের ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, আলোচিত দাবিতে আমার দেশের লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।

যমুনা টিভির ফটোকার্ড যাচাই

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে যমুনা টিভির লোগো ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘১৪ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে যমুনা টিভির ফেসবুক পেজ প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে উল্লিখিত তারিখে উক্ত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, যমুনা টিভির ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, আলোচিত দাবিতে যমুনা টিভির লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।

সময় টিভির ফটোকার্ড যাচাই

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে সময় টিভির লোগো ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘১৪ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে সময় টিভির ফেসবুক পেজ প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে উল্লিখিত তারিখে উক্ত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, সময় টিভির ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, সময় টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের ও ডিজাইনের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, আলোচিত দাবিতে সময় টিভির লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।

এছাড়া, উল্লিখিত গণমাধ্যমসমূহ ব্যতীত অন্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে আলোচিত দাবির সমর্থনে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তাছাড়া, তারেক রহমানে ফেসবুক পেজ কিংবা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো পোস্ট বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, চরমোনাই পীর ফয়জুল করিমকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জরুরী ফোনকল করেছেন দাবিতে একাধিক গণমাধ্যমসমূহের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো বানোয়াট ও ভুয়া।

তথ্যসূত্র

  • Rumor Scanner’s analysis 
Share: