‘প্রধানমন্ত্রী হলে পরীক্ষা তুলে দেবেন তারেক রহমান’ দাবিতে ভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্যের ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি ‘তারেক রহমান বলেছিলেন,প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের পরীক্ষা তুলে দিবে।’ ক্যাপশনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দাবিতে টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এক বিতার্কিকের বক্তব্য প্রদানের ভিডিও ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে। উক্ত ভিডিওতে বক্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হই, তবে সবার আগে এই পরীক্ষা ব্যবস্থাটা তুলে দেবো।’

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)৷
উক্ত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া অবধি টিকটকে প্রচারিত সর্বাধিক ভাইরাল ভিডিওটি প্রায় ২৪ লক্ষ বার দেখা হয়েছে, এটিতে প্রায় ৭৭ হাজার পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে এবং ভিডিওটি প্রায় ১৫ হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওতে থাকা বক্তা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নন। প্রকৃতপক্ষে, ১৯৯৪ সালে আয়োজিত টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সৈয়দ নাজমুল কবির নামক এক বিতার্কিকের বক্তব্যকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে Recent News নামক ইউটিউব চ্যানেলে ২০১৯ সালের ০২ আগস্ট ‘ভাইরাল রেবেকা শাফীর সম্পূর্ণ বিতর্ক|জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ১৯৯৩-১৯৯৪| Rebeka Shafi Debate’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটির সাদৃশ্য রয়েছে।
উক্ত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালের জাতীয় টেলিভিশন স্কুল বিতর্ক অনুষ্ঠানের ধারণকৃত দৃশ্য। এটির ২৩:১৭ থেকে ২৩:২৫ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশটি আলোচিত ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়েছে।
উক্ত ভিডিওটির ২২:০০ এ উপস্থাপক সৈয়দ নাজমুল কবির নামের এক বিতার্কিকের নাম ঘোষণা করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তিনি চট্টগ্রাম বিএএফ শাহীন স্কুলের ছাত্র।
এ বিষয়ে ইউটিউবে খুঁজে পাওয়া ‘১৯৯৪ সালের স্কুল বিতর্ক’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একাধিক ভিডিও (১, ২) সূত্রে একই তথ্য জানা যায়।
অর্থাৎ, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য দাবিতে সৈয়দ নাজমুল কবির নামক এক বিতার্কিকের বক্তব্যের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পূর্বেও একই ভিডিও ব্যবহার করে একইরকম দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিলো। সেসময় দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত করে রিউমর স্ক্যানার টিম ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

