তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে একাধিক গণমাধ্যমের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে ফিরছেন। এরই প্রেক্ষিতে তাকে জড়িয়ে একাধিক গণমাধ্যমের আদলে পাঁচটি ফটোকার্ড ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

একাত্তর টিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, ‘তারেক রহমান দেশে আসার উপলক্ষে তার নেতাকর্মীরা -তারেক রহমান এর জন্য দুইদিনে ৭ হাজার কুটি টাকা বিভিন্ন মহাসড়ক থেকে চাঁদা আদায় করছে।’

যমুনা টিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, ‘দেশে ফিরেই ধানমন্ডি ৩২ পুনঃনির্মাণের ঘোষণা দিবেন তারেক রহমান।’

আরটিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তারেক রহমান দেশে ফিরেই সর্বপ্রথম শেখ মুজিব এর কবর জেয়ারত করবেন, তার পর জিয়াউর রহমানের মাজার জেয়ারত করবেন। তার পর মা’কে দাপন সম্পন্ন করে আবার ২৮ তারিখে লন্ডনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বেন।’

আমার দেশ এর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডে বলা হয়েছে, ‘বিএনপি চাইলে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চাই জামায়াত।’

একাত্তর টিভির নামে প্রচারিত আরেকটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ‘তারেক জিয়ার মতো অতীতে যারা দুর্নীতি করে মানিলন্ডারিং করে বিদেশ পালিয়ে গিয়েছিল এখন তারা রাজকীয় ভাবে ফিরে আসতেছে। এখন যারা দুর্নীতি করে বিদেশ পালিয়ে আছে ভবিষ্যতে তারাও রাজকীয় ভাবে ফেরত আসবে এটাই বাংলাদেশ: অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ’

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে একাত্তর টিভি, যমুনা টিভি, আরটিভি ও আমার দেশ আলোচিত ফটোকার্ডগুলো প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, গণমাধ্যমগুলোর ফটোকার্ড ডিজাইন প্রযুক্তির সহায়তায় নকল করে আলোচিত দাবি সংবলিত ফটোকার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছে।

আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পৃথকভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার।

ফটোকার্ড যাচাই – ১

আলোচিত ফটোকার্ডে থাকা একাত্তর টিভির লোগো ও প্রকাশের তারিখের (২৪ ডিসেম্বর) সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে এমন কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে একইদিনে একাত্তর টিভির ফেসবুক পেজে একই ছবি সম্বলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম ব্যতিত বাকি সকল উপাদানের মিল রয়েছে। একাত্তরের মূল ফটোকার্ডে ‘বৃহস্পতিবার চারঘন্টা টোলমুক্ত থাকবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে আলোচিত বাক্যটি লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে একাত্তর টিভির এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ড সম্বলিত একাত্তর টিভির পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও আলোচিত দাবি সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

ফটোকার্ড যাচাই – ২

আলোচিত ফটোকার্ডে থাকা যমুনা টিভির লোগো ও প্রকাশের তারিখের সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে ২৪ ডিসেম্বর প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে উক্ত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। যমুনা টিভির ওয়েবসাইটেও আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে একইদিনে যমুনা টিভির ফেসবুক পেজে একই ছবি সম্বলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম ব্যতিত বাকি সকল উপাদানের মিল রয়েছে। যমুনার মূল ফটোকার্ডে ‘শেষ হচ্ছে অপেক্ষা; আগামীকাল দেশে ফিরছেন তারেক রহমান’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে আলোচিত বাক্যটি লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে যমুনা টিভির এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ড সম্বলিত একাত্তর টিভির পোস্টের মন্তব্যের ঘরে গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও আলোচিত দাবি সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

ফটোকার্ড যাচাই – ৩

ফটোকার্ডটিতে থাকা আরটিভির লোগো ও প্রকাশের তারিখের সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে ২৪ ডিসেম্বর এরূপ কোনো ফটোকার্ডের সন্ধান মেলেনি। এমনকি আরটিভির ওয়েবসাইটেও আলোচিত দাবি সমর্থিত সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে একইদিনে আরটিভির ফেসবুক পেজে একই ছবি সম্বলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম ব্যতিত বাকি সকল উপাদানের মিল রয়েছে। আরটিভির মূল ফটোকার্ডে ‘তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে উজ্জীবিত সারাদেশের মানুষ’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে আলোচিত বাক্যটি লেখা হয়েছে

অর্থাৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে আরটিভির এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে। 

মূল ফটোকার্ড সম্বলিত আরটিভির পোস্টের মন্তব্যের ঘরে গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও আলোচিত দাবি সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

ফটোকার্ড যাচাই – ৪

ফটোকার্ডটিতে থাকা আমার দেশ এর লোগোর সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদের অস্তিত্ব মেলেনি।

ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এর শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে আমার দেশের প্রচলিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের অমিল পরিলক্ষিত হয়। আমার দেশের পক্ষ থেকে এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়েছে যে আলোচিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।

ফটোকার্ড যাচাই – ৫

আলোচিত ফটোকার্ডে থাকা একাত্তর টিভির লোগো ও প্রকাশের তারিখের (২৩ ডিসেম্বর) সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে এমন কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে একইদিনে একাত্তর টিভির ফেসবুক পেজে একই ছবি সম্বলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম ব্যতিত বাকি সকল উপাদানের মিল রয়েছে। একাত্তরের মূল ফটোকার্ডে ‘দেশে ভারতবিরোধী বক্তব্য জটিল করছে পরিস্থিতি : অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে আলোচিত বাক্যটি লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে একাত্তর টিভির এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

সুতরাং, তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে চারটি গণমাধ্যমের নামে পাঁচটি ফটোকার্ডের চারটি ভুয়া এবং একটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: