বয়কটের কারণে কোকা-কোলার সাদা রঙের কোমল পানীয় বাজারজাত করার গুজব

গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েলে ফিলিস্তিনির স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের ক্ষেপনাস্ত্র হামলার মধ্যদিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন রূপ লাভ করে যুদ্ধে মোড় নেয়। ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ যায় হাজারো নারী ও শিশুসহ সাধারণ ফিলিস্তিনি নাগরিকের। যার প্রেক্ষিতে ইসরায়েলি সমর্থনের অভিযোগে মুসলিম দেশগুলোতে কোকা-কোলা পণ্যে বয়কটের একটি সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়।

এরই প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে কোকা-কোলা চালাকি করে গতানুগতিক কালো রঙের কোমল পানীয়ের পরিবর্তে সাদা রঙের কোমল পানীয় তৈরি করেছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে।

কোকা-কোলা

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া অবধি উক্ত দাবির একটি ভিডিওই দেখা হয়েছে প্রায় ২৮ লাখ বার। এছাড়াও ভিডিওটিতে প্রায় ১৮ হাজার ৬০০ পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়াও দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ভিডিওটি ২৭৯ বার শেয়ার করা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোকা-কোলা বাংলাদেশে সাদা রঙের কোনো কোমল পানীয় বাজারজাত করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ২০১৮ সালের ১১ জুন কোকা-কোলা জাপান কোকা-কোলা ক্লেয়ার নামের সাদা রঙের লেমন ফ্লেভার্ড একটি জিরো ক্যালোরি ড্রিংক লঞ্চ করে। যেটি শুধুমাত্র সে দেশেই পাওয়া যায়।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে কোকা-কোলা বাংলাদেশের ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করে জানা যায়, বাংলাদেশে কোকা-কোলা ব্র্যান্ডের অধীনে সাধারণ কোকা-কোলা, কোকা-কোলা জিরো সুগার এবং ডায়েট কোক এই তিন ভেরিয়েন্টের কোকো-কোলা-ই পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে এ বিষয়ে অনুসন্ধানে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে হংকং ভিত্তিক গণমাধ্যম South China Morning Post এর ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালের ৬ জুন Japan is first in the world to get ‘Coca-Cola Clear’, which has no colour or calories and tastes like lemon শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, সেবছর ১১ জুন কোকা-কোলা জাপান কোকা-কোলা ক্লেয়ার নামের একটি সাদা রঙের লেমন ফ্লেভার জিরো ক্যালোরি ড্রিংক লঞ্চ করে। যাতে কোকা-কোলা ক্লাসিকের প্রচলিত ক্যারামেল রং বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে কোকা-কোলার এই ভেরিয়েন্টটি অন্যকোনো দেশে পাওয়া যাবে কিনা সে বিষয়ে উক্ত প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।

এছাড়াও উক্ত প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবি এবং ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত ছবি পর্যলোচনার মাধ্যমে লক্ষ্য করা যায়, কোকা-কোলা ক্লেয়ারের বোতলসমূহের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে থাকা বোতলের কোনো মিল নেই।

পরবর্তীতে দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে বাংলাদেশে কোকা-কোলার ফ্র্যাঞ্চাইজি বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেডের (এএমএল) এর সাথে যোগাযোগ করলে প্রতিষ্ঠানটির বেভারেজ ইউনিটের সেলস ক্যাপাবিলিটি ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ইসরাত জাহান ইমা রিউমর স্ক্যানারকে জানান, দাবিটি ভুয়া। বাংলাদেশে কোকা-কোলার সাদা রঙের কোমল পানীয় নেই।

অর্থাৎ, সাদা রংয়ের কোনো কোকা-কোলা বাংলাদেশে পাওয়া যায় না।

মূলত, চলমান ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন সংঘাতের প্রেক্ষিতে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা প্রদানের অভিযোগে মুসলিম দেশগুলো কোকা-কোলার পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়। যা দ্রুতই মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়। সম্প্রতি, ‍উক্ত আন্দোলনের ঘটনায় কোকা-কোলা চালাকি করে গতানুগতিক কালো রঙের কোকা-কোলার পরিবর্তে সাদা রঙের কোকা-কোলা তৈরি করেছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত দাবিটি ভুয়া। বাংলাদেশে এমন কোনো সাদা কোকা-কোলার প্রোডাকশন করা হয়না। ২০১৮ সালে জাপানে প্রথম কোকা-কোলা ক্লেয়ার নামের একটি সাদা রঙের কোমল পানীয় বাজারজাত করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

উল্লেখ্য, পূর্বেও বয়কটের কারণে কোকা-কোলা ক্লেয়ার নামে সাদা রঙের কোমল পানীয় বাংলাদেশে বাজারজাত করা হয়েছে শীর্ষক দাবি  ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টিকে মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।

সুতরাং, বয়কটের কারণে কোকা-কোলা সাদা রঙের পানীয় বাজারজাত করেছে দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: