পাকিস্তানের সীতা রোডের নাম পরিবর্তন করে রহমানী নগর রাখার দাবিটি বিভ্রান্তিকর

বিগত কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে, ‘প্রবল বাতাসে পাকিস্তানের রহমান নগরীর রেলওয়ে স্টেশনের বোর্ড ভেঙে আসল নাম বেরোলো সীতা রোড’ শীর্ষক বেশকিছু পোস্ট দেখা যায়। এসব পোস্টে দাবি করা হয় যে দেশভাগের পর পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের সীতা রোড নামক একটি স্থানের নাম পরিবর্তন করে তার নাম রাখা হয় রহমানী নগর।

এই সংক্রান্ত দাবিতে প্রচারিত এমনকিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে(আর্কাইভ) এখানে(আর্কাইভ), এখানে(আর্কাইভ), এখানে(আর্কাইভ), এখানে(আর্কাইভ), এখানে(আর্কাইভ), এখানে(আর্কাইভ), এখানে(আর্কাইভ), এখানে(আর্কাইভ), এখানে(আর্কাইভ), এখানে(আর্কাইভ), এখানে(আর্কাইভ)।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারেও ২০২১ সালে একই দাবিতে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। টুইটারে ভাইরাল হওয়া পোস্টটি দেখুন এখানে(আর্কাইভ)

এছাড়া ভারতীয় সংবাদমাধ্যম OPIndia’র ওয়েবসাইটেও একই দাবিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি দেখুন OPIndia(আর্কাইভ)।

এছাড়া, প্রভাত খবর নামের আরেক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও একই দাবিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি দেখুন প্রভাত খবর(আর্কাইভ)

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পাকিস্থানের সীতা রোডের নাম পরিবর্তন করে রহমানী নগর রাখার দাবিটি পুরোপুরি সত্য নয়। তাছাড়া, সম্পূর্ন সীতা রোড এলাকার নাম পরিবর্তন করা হয়নি বরং শুধুমাত্র ঐ এলাকার একটি রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে রহমানী নগর রেলস্টেশন নামকরণ করা হয়।

কি ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে, ফেসবুকে প্রচারিত ছবিটির অনুসন্ধান করতে গিয়ে ইউটিউবে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Sindh TV News এর একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

তাদের ভিডিও প্রতিবেদনে দেখানো একটি একটি দৃশ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে রেলওয়ে স্টেশনের নামফলকে রহমানী নগর খোদাই করা ধাতব পাত উঠে গিয়ে সেইস্থানে পূর্বে খোদাই করা সীতা রোড নামফলক দৃশ্যমান হওয়ার বিষয়টি সত্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সীতা রোড পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের দাদো জেলার অন্তর্গত একটি স্থান। গুগল ম্যাপের সাহায্যে ঐ এলাকার মানচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এলাকাটির (সীতা রোড এলাকা) রেলওয়ে স্টেশনের নাম রহমানী নগর রেলওয়ে স্টেশন। মূলত পুরো এলাকাটির নাম সীতা রোড এবং শুধুমাত্র রেলওয়ে স্টেশনের নাম রহমানী নগর রেলওয়ে স্টেশন।

এছাড়াও, আন্তর্জাতিক পোস্টাল কোড সংক্রান্ত ওয়েবসাইট The postal codes.net এবং পাকিস্তানভিত্তিক শিক্ষা ফলাফল ভিত্তিক ওয়েবসাইট Loresult এর ওয়েবসাইটেও ঐ এলাকার পোস্ট অফিসের নাম হিসেবে ‘সীতা পোস্ট অফিস’ নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।

উল্লিখিত এলাকার পুলিশ স্টেশনের নাম ও ঠিকানাতেও সীতা রোডের উল্লেখ পাওয়া গেছে।

তাছাড়াও, কি ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে উল্লিখিত এলাকার একাধিক সরকারি স্কুলকলেজের ঠিকানার বিপরীতে সীতা রোডের নাম খুঁজে পাওয়া গেছে। স্কুল ছাড়াও বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানি SEPCO (Sukkur Elecrric Power Company)’র ঠিকানা হিসেবেও সীতা রোড নামের উল্লেখ রয়েছে।

মূলত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পাকিস্থানের রহমানী নগর রেলস্টেশনের নামফলক সরে গিয়ে সীতা রোড নামফলক দৃশ্যমান হওয়ার বিষয়টি সত্য। কিন্তু, সীতা রোডের নাম পরিবর্তন করে রহমানী নগর রাখার যে দাবিটি করা হয়েছে তা সঠিক নয়। ঐ এলাকায় অবস্থিত পাকিস্তানের একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানায় সীতা রোড নামের উপস্থিতি নিশ্চিত করে যে দাবিকৃত এলাকাটি এখনও ‘সীতা রোড’ নামেই পরিচিত। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ঐ স্থানের রেলওয়ে স্টেশনটির নাম পরিবর্তন করে রহমানী নগর রেলওয়ে স্টেশন রাখা হলেও পুরো এলাকার নাম হিসেবে সীতা রোড নামটিই অপরিবর্তিত রয়ে যায়।

সুতরাং, পাকিস্তানের সীতা রোডের নাম পরিবর্তন করে রহমানী নগর রাখা হয়েছে দাবিতে ফেসবুক প্রচারিত তথ্যটি বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: