সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা

সম্প্রতি, “আবিস্কার বিহীন বিজ্ঞানী সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না! এখন দুবাইতে অবস্থান করতেছে!” শীর্ষক শিরোনামসহ ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

যা দাবি করা হচ্ছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বেশকিছু একাউন্ট থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না এবং বর্তমান সময়ে তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।

গুজবের সূত্রপাত

ফেসবুক মনিটরিং টুলস এবং এডভান্স সার্চের মাধ্যমে গত ০৪ মে সকাল ১১টা ৪৪ মিনিটে ‘ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা‘ নামের একটি ফেসবুক পেইজে এ সম্পর্কিত প্রায় অনুরূপ প্রথম পোস্টটি (আর্কাইভ) খুঁজে পাওয়া যায়।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না দেওয়া এবং সাম্প্রতিক সময়ে দুবাইয়ে তার অবস্থান করার দাবিটি সত্য নয় বরং তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই আছেন এবং গত ০২ মে (মঙ্গলবার) তারিখে ওয়াশিংটনে একটি উচ্চ পর্যায়ের নির্বাহী গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুকে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ‘জুনাইদ আহমেদ পলক‘ এর ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে গত ০৩ মে সকাল ১০ টা ৩৫ মিনিটে, যুক্তরাষ্ট্রে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গোলটেবিল বৈঠক এবং সফরসঙ্গীদের উপস্থিতি সংক্রান্ত একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত পোস্টে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক উল্লেখ করেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র সফররত বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (২ মে ২০২৩) ওয়াশিংটনে ইউএস চেম্বার অব কমার্স ভবনের গ্রেট হলে ইউএস চেম্বার অব কমার্স ও ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (ইউএসবিবিসি) যৌথ আয়োজনে একটি ‘উচ্চ পর্যায়ের নির্বাহী’ গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। এ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও অন্যান্য সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

পাশাপাশি, কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর ওয়েবসাইটে গত ০২ মে “মার্কিন ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাব, বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ০২ মে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল এবং ফার্মাসিউটিক্যালে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং শুধুমাত্র মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিবেদিত ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ রাখার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, “স্মার্ট বাংলাদেশ মানে অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া এবং স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজের উপর এ ধারণা প্রতিষ্ঠিত।”

এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়সহ তাঁর সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে সফররত অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে চলাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, ০২ মে তারিখে ওয়াশিংটনে ইউএস চেম্বার অব কমার্সের উক্ত অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে দূর্নীতির কোনো সুযোগ নেই‘ শীর্ষক একটি বক্তব্য দিয়েছেন।

মূলত, গত ০৪ মে সকালে ‘ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা’ নামের একটি ফেসবুক পেইজ থেকে ভিত্তিহীনভাবে “বেশ কয়েকটি গোপন সুত্রে খবর পেয়েছি! আবিস্কার বিহীন বিজ্ঞানী সাড়ে হাজার কে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না! এখন দুবাইতে অবস্থান করতেছে!” শীর্ষক শিরোনামে একটি তথ্য প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে, এই তথ্যটির পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এর নাম সংযুক্ত করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি দাবিতে ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।

সুতরাং, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না এবং বর্তমান সময়ে সে দুবাইয়ে অবস্থান করছে শীর্ষক দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: