ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া নিয়ে ভাইরাল মন্তব্যটি মারজুক রাসেলের নয় 

সম্প্রতি ভারত সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরে ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার একটি সমঝোতা স্মারক সাক্ষর হয়। ট্রানজিট সুবিধায় বাংলাদেশের ভূখন্ডকে ব্যবহার করে ভারতের একটা অংশ থেকে ভারতেরই আরেকটা অংশে রেলওয়ে সংযোগ করবে ভারত। এই ট্রানজিট সুবিধা নিয়ে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

এরই প্রেক্ষিতে “ব্রিটিশরা যখন ভারতবর্ষে প্রথম ব্যবসা করতে আসলো তার কিছুদিন পর স্থায়ী জায়গা চাইলো। আওরঙ্গজেব তখন পিটায়-পাটায় ব্রিটিশদের ভারত ছাড়া করলো। তারও বহু বছর পর তারা আবার আসলো ওয়াইন আর ধাতু নিয়ে। সুবেদারদের ঢেলে ঢেলে ওয়াইন খাওয়ালো। দুটো জাহাজ ভেড়ানোর অনুমতি পেলো। তার কিছুদিন পর জাহাজ রাখার ঘাট চাইলো, তারপর মালামাল রাখার ওয়্যারহাউজ। তারপর একদিন ওয়‍্যারহাউজে চুরি হলো, ওয়‍্যারহাউজে বাউন্ডারি দিলো। ব্যবসা বাড়লো। তারপর ওয়্যারহাউজ চালাতে ব্রিটিশ অফিসার আসলো, তাদের থাকার বাংলো হলো। বাংলোর নিরাপত্তায় পাহাড়াদার এলো। উঁচু প্রাচীর হলো। সৈন্য এলো। দুর্গ হলো। এরপর মুঘলদের পতন হলো ব্রিটিশদের হাতে। ২০০ বছরের গোলামীর রাস্তা শুরু হয়েছিলো দুটো জাহাজ ভেড়ানোর ঘাট দিয়ে। ভারত রেল ট্রানজিট নিবে, তারপর রেলে দামি পন্য বহন করবে, কিছু উচ্ছৃঙ্খল বাঙালি (!) রেলে হামলা করবে। নিরাপত্তায় সৈন্য আসবে, ঘাটি হবে। ব্যবসা বাড়বে। দুর্গ হবে। তারপর আমরা পাসপোর্ট ছাড়া বোম্বে, গুজরাট, কাশ্মীর ঘুরতে পারবো!”- শীর্ষক একটি মন্তব্য অভিনেতা মারজুক রাসেল করেছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)। 

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া নিয়ে আলোচিত এই মন্তব্যটি অভিনেতা মারজুক রাসেলের নয় বরং তাঁর নামে পরিচালিত একটি ফ্যান পেজ থেকে করা একটি পোস্ট থেকে আলোচ্য ভুল দাবিটির সূত্রপাত হয়েছে। 

অনুসন্ধানের শুরুতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে Marzuk Russell নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গতকাল (২৪ জুন) সকাল ০৬ টা ০৭ মিনিটে করা একটি পোস্ট (আর্কাইভ) খুঁজে পাওয়া যায়। 

পরবর্তীতে উক্ত ফেসবুক পেজটির অ্যাবাউট সেকশন ঘেঁটে দেখা যায়, এটি একটি ফ্যান পেজ।

এরপর কি-ওয়ার্ড সার্চ করে Marzuk Russell নামের ভিন্ন আরেকটি পেজ খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত পেজটিতে মারজুক রাসেলকে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা যায়। উক্ত পেজের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এটি তার পেজ বলেই প্রতীয়মান হয়।

তবে এই পেজটিতে ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া নিয়ে কোনো পোস্ট বা ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া নিয়ে প্রচারিত পোস্টটি মারজুক রাসেলের নয়।

মূলত, সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়ে ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা প্রদান করে সমঝোতা স্মারক সাক্ষর করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ট্রানজিট সুবিধা প্রদান নিয়ে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে শুরু চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এরই প্রেক্ষিতে ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা প্রদান করা নিয়ে অভিনেতা মারজুক রাসেলের বক্তব্য দাবিতে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত এই মন্তব্যটি যে পেজ থেকে করা হয়েছে সেটি মারজুক রাসেলের আসল পেজ নয় বরং সেটি তাঁর নামে পরিচালিত একটি ফ্যান পেজ। প্রকৃতপক্ষে মারজুক রাসেল এরূপ কোনো মন্তব্য করেননি।

উল্লেখ্য, পূর্বেও বিভিন্ন ইস্যুতে একই কায়দায় অভিনেতা মারজুক রাসেলের ভুয়া মন্তব্য প্রচারের প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।

সুতরাং, অভিনেতা মারজুক রাসেলের নামে পরিচালিত ফ্যান পেজ থেকে ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া নিয়ে করা  মন্তব্যকে মারজুক রাসেলের মন্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। 

তথ্যসূত্র

Share: