রাশেদ প্রধানের পিএসের ওপর আক্রমণকারী ব্যক্তি সাংবাদিক নন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের প্রতিবাদে গত ১৭ এপ্রিল তার বাসার সামনে কয়েকজন অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। রাশেদ প্রধানের বাসার অদূরে আন্দোলনকারী দুই ব্যক্তি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় রাশেদ প্রধানের পিএস জনি নন্দী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোহাম্মদপুর থানায় নিয়ে যায়। এরই প্রেক্ষিতে “সাংবাদিক হয়েও বিএনপির পক্ষ নিয়ে রাশেদ প্রধানের পিএস কে থাপ্পড়” শিরোনামে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু গণমাধ্যমের মাইক্রোফোন হাতে এক ব্যক্তি পেছন থেকে জনি নন্দীকে আক্রমণের চেষ্টা করছেন। 

এ সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্টগুলো দেখুন এখানে, এখানে

একই দাবির ভিডিও দেখুন ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ব্যক্তি কোনো সাংবাদিক নন। প্রকৃতপক্ষে, তিনি জিয়া সৈনিক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক এস এম পলাশ মাহমুদ। হামলার ঘটনার সময় গণমাধ্যমের মাইক্রোফোনগুলো মাটিতে পড়ে যায়। পলাশ মাহমুদ তখন সেগুলো তুলে হাতে নেন।

ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট আল সাদি। তিনি রিউমর স্ক্যানারকে জানান, সেদিন মোহাম্মদপুরে বিএনপি নেতাকর্মীরা রাশেদ প্রধানের বাড়ির সামনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে মিডিয়াতে ইন্টারভিউ দিচ্ছিলেন। সে সময় রাশেদ প্রধানের পিএস জনি এসে বাকবিতন্ডা শুরু করে, পরে জনি দৌড়ে গিয়ে একটি ইট নিয়ে মারতে আসে বিএনপির এক কর্মীকে। তখন গণমাধ্যমের মাইক্রোফোনগুলো মাটিতে পড়ে যায়। পলাশ মাহমুদ তখন সেগুলো তুলে হাতে নেয়। এরপরই জনিকে মারতে এগিয়ে যায়। মূলত তার হাতে মাইক্রোফোন দেখে তাকে সাংবাদিক ধরে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ক্যাপশনে এই ভিডিওটি প্রচার হচ্ছে।

সাদি রিউমর স্ক্যানারের কিছু একটি ভিডিও পাঠিয়েছেন যাতে দেখা যায়, পলাশ মাটি থেকে মাইক্রোফোনগুলো তুলে নিচ্ছেন। এরপর জনির পেছনে ছুটতে দেখা যায় তাকে৷

ওপেন সোর্স অনুসন্ধানে পলাশ মাহমুদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করে রিউমর স্ক্যানার। অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনায় জানা যায়, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা। গত ০৬ মার্চ তার প্রোফাইলে প্রকাশিত একটি পোস্টারে তিনি নিজেকে জিয়া সৈনিক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক বলে উল্লেখ করেছেন।

সুতরাং, রাশেদ প্রধানের পিএসের ওপর আক্রমণকারী ব্যক্তিকে সাংবাদিক দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: