অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে ফুল ফোটার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি গ্রিনল্যান্ডের

সম্প্রতি, “অ্যান্টার্কটিকায় ফুল ফোটায় শঙ্কিত বিজ্ঞানীরা” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ফুল ফোটার কিছু ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হচ্ছে, ফুলের এই ছবিগুলো অ্যান্টার্কটিকার। যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

অ্যান্টার্কটিকা

গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন কিছু প্রতিবেদন দেখুন আজকের পত্রিকা, দৈনিক জনকণ্ঠ, ডেইলি বাংলাদেশ, পত্রদূত, ময়মনসিংহের আলো

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন পোস্ট (আর্কাইভ), পোস্ট (আর্কাইভ) এবং পোস্ট (আর্কাইভ)।

ইউটিউবে প্রচারিত এমন একটি ভিডিও দেখুন ভিডিও (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বরফে ঢাকা মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকায় ফুল ফোটার দাবিতে প্রচারিত ফুলের ছবিটি অ্যান্টার্কটিকার নয়। প্রকৃতপক্ষে ফুলের এই ছবিটি গ্রিনল্যান্ডের। তাছাড়া অ্যান্টার্কটিকায় এই ধরনের ফুল ফুটতে দেখা যায় না।

ছবিটি নিয়ে অনুসন্ধানে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে স্টকফটোর ওয়েবসাইট ‘Shutterstock‘ এটি খুঁজে পাওয়া যায়।

এখানে থাকা ছবিটির বিবরণী অনুযায়ী, ‘এটি গ্রিনল্যান্ডের উপকূল থেকে তোলা।

এছাড়া আরেকটি স্টকফটোর ওয়েবসাইট অ্যালামিতেও ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত আলোচিত ছবিটি প্রসঙ্গে একই তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

পাশাপাশি বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্টচেক বিভাগ AFP ফ্যাক্টচেক কে আলোচিত ছবিটি প্রসঙ্গে গ্রীনল্যান্ড ইনস্টিটিউট অফ ন্যাচারাল রিসোর্সের বিজ্ঞানী ক্যাট্রিন রাউন্ড্রুপ বলেন, ছবিতে থাকা ফুলগুলো সাধারনত গ্রিনল্যান্ডেই পাওয়া যায়।

ছবিটি প্রসঙ্গে গত ২৭ সেপ্টেম্বর উদ্ভিদ ও পরাগায়নকারীদের পরিবেশগত পরিবর্তনে বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী মিক্কো তিউসানেন এএফপিকে বলেন, ‘ছবির ফুলগুলো সিলেন অ্যাকোলিস এবং স্যাক্সিফ্রাগা সেসপিটোসা প্রজাতির হতে পারে। উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন এলাকায় এই ফুলগুলো দেখা গেলেও অ্যান্টার্কটিকায় দেখা যায় না।’

অ্যান্টার্কটিকার স্থানীয় ফুল সম্পর্কে যা জানা যায়

অ্যান্টার্কটিকায় জন্মানো উদ্ভিদ সম্পর্কে জানতে অনুসন্ধানে কানাডার গ্ণমাধ্যম ‘CANADA’S NATIONAL OBSEVER’ এ “Explosion of plant life shows ‘major change’ in a warming Antarctica” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অ্যান্টার্কটিকায় মাত্র দুটি প্রজাতির ফুলের গাছ পাওয়া যায়। এর একটি হলো অ্যান্টার্কটিক হেয়ার গ্রাস (ডেসচ্যাম্পসিয়া অ্যান্টার্কটিকা) এবং অ্যান্টার্কটিক পার্লওয়ার্ট (কোলোবানথাস অ্যাফেনসিস)। এগুলো দক্ষিণ অর্কনি দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এবং পশ্চিম অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপে জন্মে।

এছাড়া British Antarctic Survey এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ীও অ্যান্টার্কটিক মহাদেশের বেশিরভাগ অংশ বরফে আচ্ছাদিত থাকায় সেখানে কোনো গাছ বা গুল্ম জন্মায় না। ফুলের প্রজাতির মধ্যে শুধুমাত্র দুটি প্রজাতির ফুল পাওয়া যায়।

অ্যান্টার্কটিক মহাদেশের উদ্ভিদ সম্পর্কে আরও দেখুন

The Plants of Antarctica

একই দাবিতে ভিন্ন আরেকটি ছবি প্রকাশ করে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচার করা হয়েছে

গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদনটি দেখুন দৈনিক জনকণ্ঠ।

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে স্টকফটোর ওয়েবসাইট অ্যালামিতে ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল “Frost flowers formed on thin sea ice when the atmosphere is much colder than the underlying ice, Greenland, Denmark” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একই ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়।

অর্থাৎ আলোচিত দাবিতে প্রচারিত এই ছবিটিও গ্রিনল্যান্ডের।

মূলত, সম্প্রতি তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে অ্যান্টার্কটিকায় ফুল, শ্যাওলা এবং শৈবাল পূর্বের তুলনায় অধিকহারে ফোটা ও ছড়িয়ে পড়া নিয়ে বিজ্ঞানবিষয়ক অনলাইন আউটলেট ‘সায়েন্স অ্যালার্ট’ এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গিয়ে দেশীয় কিছু গণমাধ্যমে অ্যান্টার্কটিকায় ফোটা ফুলের ছবি দাবিতে কিছু ছবি ব্যবহার করে। তবে এ ছবিগুলো নিয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দেশীয় গণমাধ্যমে ব্যবহৃত এই ছবিগুলো অ্যান্টার্কটিকায় ফোটা নয় বরং এই ছবিগুলো গ্রিনল্যান্ডের।

সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনটি পড়ুনঃ Flowers Are Spreading in Antarctica as Summer Temperatures Soar

গ্রিনল্যান্ডের দুইটি ছবিকে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে তাপমাত্রাজনিত কারণে ফুল ফোটার দৃশ্য দাবিতে কতিপয় গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

(2): “Frost flowers formed on thin sea ice when the atmosphere is much colder than the underlying ice, Greenland, Denmark

Share: