বাংলাদেশের গণমাধ্যম ‘টাইমস অফ বাংলাদেশ’ এ প্রকাশিত ফটোকার্ডকে মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম’ এ প্রকাশিত দাবি

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ফটোকার্ড প্রচার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘প্রভাবশালী গণমাধ্যম টাইম ম্যাগাজিনে স্থান পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়ির চারপাশে বিএনপি মন্ত্রী ও নেতাদের দৌড় প্রতিযোগিতা। এ এক বিরাট ব্যাপার। এবার অলিম্পিক ঠেকায় কে।..’ প্রচারিত ফটোকার্ডে দেখা যায়, গাড়িতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্টুন অবয়ব বসে আছেন এবং তারেক রহমানের গাড়ির পাশে কয়েকজন দৌড়াচ্ছেন৷ পাশাপাশি, ফটোকার্ডে লেখা রয়েছে, ‘BNP leaders ‘on the run’ to catch Tarique’s eye.

অর্থাৎ, দাবি করা হয়েছে তারেক রহমানের গাড়ির পাশে বিএনপি নেতাদের দৌড়ানোর কার্টুন সংবলিত ফটোকার্ডটি মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশ হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, তারেক রহমানের গাড়ির পাশে বিএনপি নেতাদের দৌড়ানোর কার্টুন সংবলিত ফটোকার্ডটি মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশ হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, ফটোকার্ডটি বাংলাদেশের গণমাধ্যম ‘টাইমস অফ বাংলাদেশ’ এ প্রকাশ হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করলে তাতে নিচে ডান কোণায় বাংলাদেশি গণমাধ্যম ‘ডেইলি টাইমস অফ বাংলাদেশ’ এর লোগোর সংযুক্তি পাওয়া যায়। এরই সূত্র ধরে ‘টাইমস অফ বাংলাদেশ’ এর ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করলে গত ২৩ মে তারিখে আলোচিত ফটোকার্ডটি প্রচার হতে দেখা যায়।

ফটোকার্ড পোস্টটির মন্তব্য বিভাগে একটি প্রতিবেদন/নিবন্ধ এর লিঙ্কের সংযুক্তি পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে আলোচিত কার্টুনটি ‘টাইমস অফ বাংলাদেশ’ এর সজীব রায় তৈরি করেছেন বলে উল্লেখ করা হয় এবং প্রতিবেদনে সম্প্রতি তারেক রহমানের গাড়িবহরের পাশে বা সামনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের পরিচিত ও প্রভাবশালী নানা নেতাদের দৌড়ানোর ঘটনার উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম’ এর ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করলে তাতে আলোচিত ফটোকার্ড বা কার্টুন প্রকাশ হতে দেখা যায়নি। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, গত এপ্রিলে ‘টাইম’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন তারেক রহমান। তবে তাতে আলোচিত দৌড়ের বিষয়ের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, বাংলাদেশের গণমাধ্যম ‘টাইমস অফ বাংলাদেশ’ এ প্রকাশিত ফটোকার্ডকে মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম’ এ প্রকাশিত ফটোকার্ড দাবি করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: