সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, শেখ রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে ২ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে ব্রিটিশ আদালত।

উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, টিউলিপ সিদ্দিকীকে ব্রিটিশ আদালত কর্তৃক দুই বছর জেল দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয় বরং তাকে কারাদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে উক্ত দাবির পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে এসব পোস্টে সূত্র হিসেবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এর সংবাদকে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির এ সংক্রান্ত সংবাদ পড়ে জানা যায়, সরকারি জমি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের একটি আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত মিসেস সিদ্দিককে তার খালা, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের রাজধানীর শহরতলিতে একটি জমি অধিগ্রহণে সহায়তা করার জন্য দুর্নীতির মাধ্যমে প্রভাবিত করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
অর্থাৎ, এই প্রতিবেদনে ব্রিটিশ আদালত কর্তৃক টিউলিপকে সাজা দেওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
আরো অনুসন্ধানে বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের ২ বছর, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ বছর, তাঁর বোন শেখ রেহানার ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি টিউলিপ সিদ্দিককে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও শেখ রেহানাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই মামলার অন্য ১৪ আসামিকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ০১ ডিসেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারক মো. রবিউল আলম এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় তাঁদের এই কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলাটি করেছিল গত ১৩ জানুয়ারি।
সুতরাং, টিউলিপ সিদ্দিককে বাংলাদেশে আদালত সাজা দেওয়ার খবরকে ব্রিটিশ আদালত কর্তৃক সাজা দেওয়া হয়েছে দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।


