বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে ডুবে যাওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ভিডিওকে ‘তুরাগ ট্রাজেডি’ বলে প্রচার

সম্প্রতি, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে তুরাগ নদ থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের একটি ভিডিও প্রচার করে ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘তুরাগ ট্রাজেডির আরেক জনের লাশ পাওয়া গেছে। আরেফিনের লাশ’।
উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
এক্স (টুইটার) পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি আওয়ামী লীগের কোনো কর্মীর মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য নয় এবং ভিডিওটির ঘটনাস্থল তুরাগ নদও নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে নিখোঁজ হওয়া আরেফিন নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার দৃশ্য।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দৈনিক আজাদী নামের একটি নিউজ পোর্টালের ফেসবুক পেজে ২৫ জুন প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের সম্পূর্ণ মিল রয়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, এটি বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে নিখোঁজ শিশু আরেফিনের মরদেহ উদ্ধারের ভিডিও।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে শিশু আরেফিনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ২৪ জুন প্রকাশিত সময় টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে হাত-মুখ ধোয়ার সময় পা পিছলে পানিতে পড়ে যায় শিশু আরেফিন। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান পায়নি। নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর বান্দরবান শহরের বালাঘাটা হর্টিকালচার এলাকার সাঙ্গু নদী থেকে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত শিশু আরহাম আরেফিন নোহান(১১) বান্দরবান শহরের বালাঘাটা বাজার এলাকার সাতকানিয়া হোটেলের মালিক মো. এনাম হোসেনের ছেলে।
এ বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যম সাঙ্গু নদী থেকে শিশু আরেফিনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে প্রতিবেদন (১,২,৩) প্রকাশ করে।
সুতরাং, বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে ডুবে মারা যাওয়া শিশু আরেফিনের মরদেহ উদ্ধারের ভিডিওকে আওয়ামী লীগ কর্মীর মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Dainik Azadi – Facebook Post
- Somoy News – সাঙ্গু নদীতে নিখোঁজের ৫ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

