তুরস্কের ইনসারলিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলার দাবিতে সিরিয়ার অভিযানের পুরোনো ভিডিও প্রচার

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোসহ ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান।

এই প্রেক্ষাপটে তুরস্কের ইনসারলিক ঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়। ভিডিওতে একজন সাংবাদিককে ঘটনাস্থল থেকে প্রতিবেদন দিতে দেখা যায়। 

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে

একই দাবিতে অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: ইনস্টাগ্রাম, এক্স

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ইনসারলিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি গত জানুয়ারিতে সিরিয়ায় ধারণ করা হয়েছে; এর সঙ্গে চলমান ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত কিংবা তুরস্কের ইনসারলিক ঘাঁটির কোনো সম্পর্ক নেই।

ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে, ‘Mehmet Altunışık’ নামের একটি ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গত ১০ জানুয়ারি প্রকাশিত একই ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, “শেখ মাকসুদে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে।” এছাড়া লোকেশন হিসেবে আলেপ্পো, সিরিয়া ট্যাগ করা রয়েছে।

পরবর্তীতে ভিডিওতে দেখা যাওয়া সাংবাদিকের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে প্রকাশিত একাধিক পোস্ট (,) থেকে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা প্রতিবেদক তিনিই। তিনি জানান, ভিডিওটি সিরিয়ার আশরাফিয়াহ মহল্লায় পরিচালিত একটি অভিযানের সময় ধারণ করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে তুরস্কের কোনো সম্পর্ক নেই। একই বিষয়টি তিনি একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেও নিশ্চিত করেন।

এছাড়া তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তরের ডিসইনফরমেশন প্রতিরোধ কেন্দ্র গত ২ মার্চ এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে জানায়, প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তুরস্কে কোনো বিদেশি দেশের সামরিক ঘাঁটি নেই এবং দেশের আকাশসীমা, ভূখণ্ড ও প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণভাবে তুরস্কের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অন্য কোনো বিশ্বস্ত সূত্রেও তুরস্কের ইনসারলিক ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, গতকাল (০৪ মার্চ) সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা অতিক্রম করে তুরস্কের দিকে ধেয়ে আসা ইরান থেকে নিক্ষেপ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সুতরাং, সিরিয়ায় ধারণ করা পুরোনো একটি ভিডিওকে তুরস্কের ইনসারলিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: