সম্প্রতি, ‘চট্টগ্রামে গহীন জঙ্গলে দু-শিশুকে অপহরণ করে গাছের সাথে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করছে সন্ত্রাসীরা। ভিডিও কলে ধর্ষণ করে পরিবারের সদস্যদের দেখানো হচ্ছে! প্রশাসন নির্বিকার কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে৷

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)৷
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওটির সঙ্গে প্রচারিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালে মায়ানমারে মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি দুই রোহিঙ্গা নারীর ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে এনজিও সংস্থা ‘Justice For All’ এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ২০২৫ সালের ১৫ মে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির সাদৃশ্য রয়েছে।

উক্ত ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, এটি মায়ানমার থেকে মালেশিয়ায় পাচারকালে দুই রোহিঙ্গা তরুণীকে মুক্তিপণের জন্য আটকে রেখে নির্যাতনের দৃশ্য। তাদের যাত্রাপথে আটক করা হয় এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৪,০০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বলা হয়, মুক্তিপণ না দিলে তাদের অন্য পাচারকারীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হবে।
পরবর্তীতে, এ বিষয়ে Mira Haber এর ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ১৮ মে ‘Human traffickers tortured Rohingya women for ransom!’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেই একই তথ্য জানা যায়।
সুতরাং, চট্টগ্রামের জঙ্গলে দুই শিশুকে অপহরণ ও ধর্ষণ দাবিতে মায়ানমারে মানবপাচার ও অপহরণের শিকার দুই নারীর ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Justice For All – X Post


