জাতিসংঘের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে পাকিস্তান ও বিপক্ষে ভারতের ভোটের দাবি ভিত্তিহীন

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গত ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৮ ভোটে পরাজিত করে তিনি এক বছরের জন্য এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি প্রচার করা হয়েছে, জাতিসংঘের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছে পাকিস্তান আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ভারত।
এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘জাতিসংঘের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছে পাকিস্তান, বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ভারত’ শীর্ষক দাবি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে জাতিসংঘের উক্ত পদের নির্বাচনটি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় এবং কোন কোন দেশ কাদের ভোট দিয়েছে তা প্রকাশ করা হয় না বা জানার উপায় নেই।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে গত ২ জুনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ভোটে খলিলুর রহমান ৯৯টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে কাকোরিস পেয়েছেন ৯১টি ভোট। কোনো ভোট বাতিল বা কেউ ভোটদানে বিরত না থাকায় মোট ১৯০টি ব্যালট কাস্ট হয়েছিল। জাতিসংঘের এই সভাপতিত্বের পদটি এর পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয় এবং এর ৮১তম অধিবেশনটি এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের ভাগে পড়েছে। খলিলুর রহমান আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এক বছরের মেয়াদে এই দায়িত্ব পালন করবেন। উক্ত প্রতিবেদনে কে বা কারা খলিলুর রহমানকে ভোট দিয়েছে বা দেয়নি এর কোনো উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘আল জাজিরা’র ওয়েবসাইটসহ নানাদেশিয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হতে দেখা যায়। তবে কোথাও কে বা কারা খলিলুর রহমানকে ভোট দিয়েছে বা দেয়নি তার কোনো উল্লেখ করা হয়নি।
অনুসন্ধানে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে সাধারণ অধিবেশন সেকশনে সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি অংশে পাওয়া যায়, কার্যপ্রণালী বিধির ৯২ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী, এই নির্বাচন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে কোনো মনোনয়ন থাকে না। সভাপতি সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হন।
অর্থাৎ, উপরোক্ত তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট যে খলিলুর রহমানকে কে বা কারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি তা প্রকাশ করা হয়নি এবং জানা সম্ভব নয়।
সুতরাং, ‘জাতিসংঘের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছে পাকিস্তান, বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ভারত’ শীর্ষক দাবি বানোয়াট ও মিথ্যা।

