সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে ইরানের মসজিদে আমেরিকার মিসাইল হামলা দাবিতে ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ ঘটনায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। এরই প্রেক্ষিতে, ‘ইরানে গত কাল তারাবির নামাজ রত অবস্থায় মসজিদে মিসাইল নিক্ষেপ করে USA/ইসরাইন এর যৌথ অভিযান আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন আমিন’’ শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অবধি ভিডিওটি ১ লাখ ৮৩ হাজারবার দেখা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি ইরানের মসজিদে আমেরিকার মিসাইল হামলার কোনো ঘটনা নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি গত জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেটে বিদ্যমান রয়েছে এবং দাবি করা হচ্ছে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ইরানের মসজিদে বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগের ভিডিও।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে তুরস্কের গণমাধ্যম ‘TRT World’ এর ফেসবুক পেজে গত ১০ জানুয়ারি প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফুটেজের মিল রয়েছে।

উক্ত ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, ৯ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়, ইরানে বিক্ষোভের মধ্যে তেহরানে একটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়। তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মসজিদে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে যুগান্তরের ওয়েবসাইটে গত ১০ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সরকারবিরোধী আন্দোলনে ইরানের রাজধানী তেহরানে টানা দুই রাতের বিক্ষোভে শহরের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে তেহরানের একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠে।

সেসময় এবিষয়ে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমগুলো সংবাদ (, , ) প্রচার করে।

সুতরাং, গত জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেটে বিদ্যমান ভিডিওকে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের মসজিদে আমেরিকার মিসাইল হামলার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: