আ.লীগ কর্মীকে বিএনপির হত্যা দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের সংঘর্ষের

সম্প্রতি, বিএনপি কর্মীরা তিনজন আওয়ামী লীগ কর্মীকে হত্যা করে সড়কে তাদের মরদেহ ফেলে রেখেছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। ভিডিওতে সড়কের ওপর তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনাকে বিএনপি কর্তৃক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

একই ভিডিওটি মিছিল করে ফেরার পথে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হত্যার দাবিতেও প্রচারিত হতে দেখা যায়। এমন দাবিতে প্রচারিত পোস্টটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ),

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত ভিডিওটি বিএনপি কর্তৃক আওয়ামী লীগ কর্মীদের হত্যার কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার পরের দৃশ্য।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এনটিভির ওয়েবসাইটে গত ৬ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ছবিটি খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার পূজগাং ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মধুমঙ্গল পাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনার। তবে কাদের মাঝে এই সংঘর্ষ হয় সেটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

পরবর্তীতে একই ঘটনায় আজকের পত্রিকা এবং ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে পদ্মা চাকমা, ধনা চাকমা ও রিয়েল চাকমা নামে তিনজন নিহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এসব প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুই আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে চলমান বিরোধের জেরে একটি অটোরিকশা থামানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এছাড়া সম্প্রতি জেএসএসের এক সাবেক সদস্যের আত্মসমর্পণের পর সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ উত্তেজনাও এই সংঘর্ষের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওটি কোনো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের নয়। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা পরবর্তী দৃশ্য।

সুতরাং, খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনাকে বিএনপি কর্তৃক তিন আওয়ামী লীগ কর্মীকে হত্যা করার ঘটনা দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: