গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ ঘটনায় ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা চলমান রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে “ইরানের বিমানবাহিনী। পাহাড়ের নিচে বিমান ঘাটি।” দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পাহাড়ের নিচে ইরানের বিমান ঘাঁটি দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এই ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রেও ভিডিওটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে প্রচারিত ভিডিওটি সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করে ভিডিওতে কিছু এআইজনিত অসঙ্গতি লক্ষ্য করে রিউমর স্ক্যানার। বিমানটির ডান ডানাটি উড্ডয়নের আগে যে সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়েছিল তার দেয়ালের সাথে ওভারল্যাপ করে ছিল এবং উড্ডয়নের মুহূর্তে চলাচলের মসৃণতা থেকে প্রতীয়মান হয় যে অংশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জাম ব্যবহার করে পরিবর্তন বা একত্রিত করা হয়েছিল। ভিভিওটির সূত্রপাতের খোঁজে barland3 নামের একটি টিকটক অ্যাকাউন্টে এ সংক্রান্ত মূল ভিডিওটির সন্ধান পাওয়া গেলেও ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ায় গুগলের সার্চ ইঞ্জিনে এটির শুধু প্রিভিউ দেখা যাচ্ছে।

ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় নির্মিত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম Hive Detect-এ ভিডিওটি পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯২ শতাংশ।
আরব ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম মিসবার জানায়, barland3 নামের টিকটক অ্যাকাউন্টটি ইরানি সেনাবাহিনী এবং ইরানি সামরিক গতিবিধি সম্পর্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ফুটেজ প্রকাশ করে আসছিল৷
সুতরাং, পাহাড়ের নিচে ইরানের বিমান ঘাঁটি দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি এআই জেনারেটেড।
তথ্যসূত্র
- Hive Detect
- Rumor Scanner’s Analysis


