ভারতে মুসলিম নারীকে মারধরের দাবিতে কোচিং একাডেমিতে এক যুবককে শাস্তি দেওয়ার ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি, ভারতের একটি অফিসে মুসলিম নারী কর্মকর্তাকে জুতা দিয়ে মারধর করা হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার। ভিডিওটিতে দেখা যায় চাদর মুড়ি দিয়ে টেবিলে হেলে ঘুমানোর কারণে নারী দাবিকৃত ওই ব্যক্তিতে অপর আরেকজন জুতা দিয়ে একাধিকবার আঘাত করেন।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
থ্রেডসে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটি ভারতের কোনো অফিসে মুসলিম নারীকে হেনস্তার ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি ভারতের প্রতিরক্ষা বিভাগ সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক প্রতিষ্ঠান ‘কমান্ডো একাডেমি’র একটি ভিডিও, যা আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া, ভিডিওতে যাকে জুতা দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়, তিনি কোনো নারী নন; বরং ওই একাডেমির একজন যুবক শিক্ষার্থী।
আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে Veerat Choudhary নামের একটি ভারতীয় ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি একই ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়। ভিডিওটির ডানপাশে নিচের দিকে নতুন ভর্তির জন্যে যোগাযোগের আহ্বান জানানো একটি ব্যানারও দেখতে পাওয়া যায়।

উক্ত ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে গত ২৫ জানুয়ারি প্রচারিত আরেকটি ভিডিওর সন্ধান পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওটিতেও তাকে একই পোশাকে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমাতে থাকা আরেকজনকে জুতা দিয়ে মারতে দেখা যায়। ভিডিওটিতে মারধরকারীকে বলতে শোনা যায়, যদি চাকরি পেতে হয় তাহলে জুতার বাড়ি খেতেই হবে। এর পাশাপাশি উক্ত ভিডিওটিতেও আগের মত ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও ভিডিওটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মারধরের শিকার ওই ব্যক্তির আশেপাশে বসে থাকা যুবকরা টেবিলে বসে পড়াশোনা করছে।
পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটিতে মারধরকারী ওই ব্যক্তির নাম ভিরাট চৌধুরী। তিনি কমান্ডো একাডেমি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। প্রতিষ্ঠানটি ভারতীয় সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ ট্রেডসম্যান, আরপিএফ কনস্টেবল, দিল্লি পুলিশ, রাজস্থান পুলিশ এবং বিভিন্ন ধরণের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উদ্দেশ্যে তৈরি। ভিডিওটিতে উক্ত একাডেমিতে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি-ই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়াও অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিরাটের নিজের নামে শিশুদের আরেকটি একাডেমিও আছে। উক্ত একাডেমির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে তার একটি ভিডিওর সন্ধানও পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে তিনি দর্শকদের স্পষ্টভাবে জানান, আলোচিত ভিডিওতে তিনি যাকে জুতা দিয়ে আঘাত করেন সে কোনো নারী নন, বরং তার একাডেমির একজন পুরুষ শিক্ষার্থী। ওই যুবক পড়াশোনার মুহুর্তে ঘুমানোয় তিনি মজার ছলে তাকে জুতা দিয়ে আঘাত করেন।

ভিরাটের একাধিক সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিদ্যমান অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে এমন একাধিক ভিডিওর সন্ধান পাওয়া যায় যেখানে তাকে তার একাডেমির শিক্ষার্থীদের রুমে অথবা তাদের আড্ডায় গিয়ে এমন হাসি ঠাট্টা করতে দেখা যায়। এমন কিছু ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওটি ভারতের কোনো অফিসে কোনো মুসলিম নারী কর্মকর্তাকে হেনস্তার ঘটনার নয়।
সুতরাং, ভারতের প্রতিরক্ষা বিভাগ সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক প্রতিষ্ঠান ‘কমান্ডো একাডেমি’র যুবক শিক্ষার্থীকে আঘাতের ভিডিওকে ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম নারী কর্মকর্তাকে অফিসে জুতা দিয়ে আঘাতের দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

