সম্প্রতি, বিএনপি নেত্রী ও ‘মায়ের ডাক’ এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির পুরোনো ভিডিও দাবিতে একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।
একই ভিডিও এনসিপির নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুর দাবিতেও প্রচার হতে দেখা যায়।
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়– একটি রুমে এক নারী এবং এক পুরুষকে জনতা আটক করে। সেই ভিডিওতে থাকা নারীকেই সানজিদা ইসলাম তুলি এবং ডা. মাহমুদা মিতু দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

সানজিদা ইসলাম তুলির দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ডা. মাহমুদা মিতুর দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বিএনপি নেত্রী ও ‘মায়ের ডাক’ এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি কিংবা এনসিপির নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুর নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত ১৯ এপ্রিল ঢাকার আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টসের দুই কর্মীকে একটি রুম থেকে আটক করে জনতা। সেই ঘটনার ভিডিও এটি।
অনুসন্ধানে ‘Germents News’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ১৯ এপ্রিল প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

উক্ত পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ঢাকার আশুলিয়ার নিশ্চিতপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টসের দুইজন অবৈধ কার্যকলাপের সময় হাতেনাতে আটক হন।
একই পেজে উক্ত ঘটনার আরও একটি ভিডিও পাওয়া যায়। সেখানে অভিযুক্ত নারীর চেহারা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। পরবর্তীতে বিএনপি নেত্রী ও ‘মায়ের ডাক’ এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির চেহারা এবং ডা. মাহমুদা মিতুর চেহারার সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তুলি কিংবা মিতুর চেহারা এবং ভিডিওতে থাকা নারী এক ব্যক্তি নন।

পাশাপাশি, একই পেজ থেকে উক্ত ঘটনার ০২ মিনিট ০৩ সেকেন্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ ভিডিও পাওয়া যায়। সেখানেও বলা হয়েছে– ঘটনাটি ঢাকার আশুলিয়ার অনন্ত গার্মেন্টেসের দুই কর্মীকে আপত্তিকর অবস্থার আটক করার ভিডিও এটি। এছাড়া, ২০ এপ্রিল একই পেজ থেকে উক্ত ঘটনার আরেকটি ভিডিও প্রচার করে বলা হয়েছে, গতকাল অর্থাৎ, ১৯ এপ্রিলের ঘটনা এটি।
সুতরাং, ভিন্ন ব্যক্তির ভিডিওকে বিএনপি নেত্রী সানজিদা ইসলাম তুলি এবং এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুর ভিডিও দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।


