হাসনাত আব্দুল্লাহর বাবা দাবিতে ভিন্ন ব্যক্তির ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি অনলাইনে একজন ব্যক্তির একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ভিডিওটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর বাবার। ভিডিওতে উক্ত ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আমার ছেলেরে আল্লাহর নামে ছেড়ে দিয়েছি। আমি ১০টা মার্ডার করাবো। ১০টা মার্ডার করাবো আমি। ফেসবুকে ডাইরেক্ট বললাম। যে আমরা কোনো বিচার-আচার মানি না।’

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
এরূপ দাবিতে অনলাইন পোর্টালে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: সোনার বাংলা২৪।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি হাসনাত আবদুল্লাহর বাবার নয়। বরং, গাজী সুজন নামের ভিন্ন এক ব্যক্তির ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘গাজী ইমন’ নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারিতে প্রচারিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে আলোচিত ভিডিওতে প্রদর্শিত ব্যক্তিকেও দেখা যায়।

গাজী ইমনের পোস্টে উক্ত ব্যক্তিকে নিজের বাবা ও পরিবার হিসেবে উল্লেখ করতে দেখা যায়। গাজী ইমনের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সাম্প্রতিক সময়ের পোস্ট পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় গাজী ইমন হাসনাত আবদুল্লাহর একজন কর্মী/সমর্থক।

অধিকতর অনুসন্ধানে আলোচিত ভিডিওতে প্রদর্শিত ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায় যেখানে তার নাম ‘আলহাজ্ব গাজী সুজন’ বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। অপরদিকে কুমিল্লা ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘কুমিল্লার কাগজ’ এর ফেসবুক পেজে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণের তালিকা’র সূত্রে জানা যায়, হাসনাত আবদুল্লাহর বাবার নাম ‘মোঃ জালাল উদ্দিন’।

এছাড়াও, হাসনাত আবদুল্লাহর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারিতে হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার বাবার একটি ছবি পোস্ট পাওয়া যায়। হাসনাত আবদুল্লাহর বাবার সাথে আলোচিত ভিডিওতে প্রদর্শিত ব্যক্তির তুলনা করলে তাদের মুখমণ্ডলে বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায় এবং দুইজন ভিন্ন ব্যক্তি বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
তবে, আলোচিত ভিডিওটি ঠিক কবেকার এবং কোন প্রেক্ষাপটে ধারণকৃত সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সুতরাং, ভিন্ন এক ব্যক্তির ভিডিওকে হাসনাত আবদুল্লাহর বাবার ভিডিও দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Gazi Emon – Facebook Post
- আলহাজ্ব গাজী সুজন – Facebook Account
- Comillar Kagoj – Facebook Post
- Hasnat Abdullah – Facebook Post

