ভারতে পুলিশ কনস্টেবলের ওপর হামলার ঘটনাকে বাংলাদেশের দাবিতে প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে রাস্তায় ফেলে দুই যুবকের মারধরের একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি প্রচার করা হয়েছে, ভিডিওটি বাংলাদেশে পুলিশ কনস্টেবলের ওপর প্রাণঘাতী হামলার দৃশ্যের।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশে পুলিশ কনস্টেবলের ওপর হামলার দৃশ্যের নয়। প্রকৃতপক্ষে ভিডিওটি ভারতের। গেল ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের ওড়িশা রাজ্যের ফুলবানি এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে দুই যুবকের হামলায় এক পুলিশ কনস্টেবলের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনার দৃশ্য এটি।

আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে রমেশ তিওয়ারি নামক একটি এক্স অ্যাকাউন্টে গত ১ মার্চে প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিতিওটির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়। এ বিষয়ে ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, ‘সাই মন্দিরের কাছে প্রকাশ্য দিবালোকে সন্তোষ প্রধান এবং অঞ্জন সোয়াইন মিলে কনস্টেবল মনোরঞ্জন সাবাতকে নৃশংসভাবে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে, যখন শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে তা দেখছিল এবং ভিডিও করছিল। ফুলবানি টাউন পুলিশ অভিযুক্ত উভয়কেই গ্রেপ্তার করেছে; তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’ (অনূদিত)

এরই সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্যা নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এর ওয়েবসাইটে গত ২ মার্চে এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) (ওড়িশা রাজ্যের) ফুলবানি শহরের সাই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে দুই যুবকের কথিত হামলায় এক পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যের নাম মনোরঞ্জন সাবাত, তিনি ফুলবানি শহরেরই বাসিন্দা। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিকেল ৪টার দিকে সাবাত যখন সাধারণ পোশাকে ছিলেন, তখন সালুকি সাহি এলাকার সন্তোষ প্রধান এবং অঞ্জন সোয়াইনের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। অভিযুক্তরা সেই সময় মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।’ (অনূদিত)

এছাড়াও, এ বিষয়ে আরো একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমেও একইরকম তথ্যসমেত সংবাদ পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, কিছু গণমাধ্যমে ঘটনাটি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।

এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয় বরং, ভারতের ওড়িশা রাজ্যের।

সুতরাং, বাংলাদেশে পুলিশ কনস্টেবলের ওপর প্রাণঘাতী হামলার দৃশ্য দাবিতে ভারতের ঘটনার ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: