সম্প্রতি, শিক্ষক কর্তৃক এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে মারধরের একটি ভিডিও শেয়ার করে এটি বাংলাদেশের ঘটনা দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের ঘটনা দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে, এখানে এবং এখানে।
এক্সে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে।
পাশাপাশি, একই ভিডিও নরসিংদীর মাদরাসাতুল আবরার আল-আরাবিয়্যাহ মাদরাসার দাবিতেও প্রচার হতে দেখা যায়। দেখুন: এখানে, এখানে এবং এখানে।
নরসিংদীর দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষক কর্তৃক এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে মারধরের ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার একটি মাদ্রাসায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার ভিডিওকে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া, নরসিংদীর একটি মাদ্রাসায় গোসল করতে না চাওয়ায় এক শিশুকে মাদ্রাসাশিক্ষক কর্তৃক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠলেও প্রচারিত ভিডিওর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ‘Republic World’ এর ওয়েবসাইটে গত ০৪ এপ্রিলে একই ছবি ব্যবহারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটির বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার একটি মাদ্রাসায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার ভিডিও এটি।
এছাড়া, ভারতের সাহারানপুর পুলিশ গত ৪ এপ্রিল এক এক্স পোস্টে জানায়, আলোচিত ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলা করেছে এবং দ্রুত অভিযানে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানায় তারা।
অর্থাৎ, এটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার ভিডিও নয় তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, নরসিংদী শহরের একটি মাদ্রাসায় গোসল করতে না চাওয়ায় সাত বছর বয়সী মুজাহিদুল নামের একজন শিক্ষার্থীকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে নাজমুস সাকিব নামক এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বর্তমানে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক নাজমুস সাকিবকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। তবে, এই ঘটনার সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের কোনো সম্পর্ক নেই।
সুতরাং, ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার একটি মাদ্রাসায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার ভিডিওকে বাংলাদেশে শিক্ষক কর্তৃক এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে মারধরের দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Republic World: Brutal: 10-Year-Old Boy Screams In Pain As Maulana Rains Lashes On Him With Stick At Saharanpur Madrasa
- Saharanpur Police: X Post
- Prothom Alo: নরসিংদীতে গোসল করতে না চাওয়ায় শিশুশিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটুনি, মাদ্রাসাশিক্ষক আটক
- Rumor Scanner’s Analysis


