ভারতে মারধরের ভিডিওকে বাংলাদেশে ইমাম ও জামায়াত নেতাদের ওপর হামলার দৃশ্য দাবিতে প্রচার

সম্প্রতি অনলাইনে মারধরের একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘চাঁ/দা/বাজির বিরুদ্ধে ওয়াজ করায় ইমাম মোয়াজ্জেমকে মা/র/ধর’। (বানান অপরিবর্তিত)

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত উপরোল্লিখিত পোস্টটি এককভাবে ২৩ লক্ষেরও অধিক বার দেখা হয়েছে, ৬৮ হাজারেরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে এবং ৫৪ হাজারের অধিক বার শেয়ার করা হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এছাড়াও, মারধরের একই ঘটনার ভিডিও ‘গোলাম আজম ভাষা সৈনিক বলায় ছাত্রদল নেতার হামলার শিকার জামাত নেতারা’ শীর্ষক দাবিতেও ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ওয়াজ করায় ইমাম-মুয়াজ্জিনকে মারধর কিংবা গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক বলায় জামায়াত নেতাদের ওপর ছাত্রদল নেতার হামলার কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে ভিডিওটি গত ১৫ ফেব্রুয়ারিতে ভারতের উত্তর প্রদেশের বুদাউনে অক্ষয় নামের এক ব্যক্তির স্কুটারকে রাস্তা না দেওয়ায় তিনজন ব্যক্তিকে চড় মারার ঘটনার দৃশ্যের।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা সিয়াসাত ডেইলি’র ওয়েবসাইটে গত ২১ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে একটি ছবিরও সংযুক্তি পাওয়া যায় যার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়। দৃশ্যের বর্ণনায় বলা হয়, ‘উত্তরপ্রদেশে এক ব্যক্তি তিনজন মুসলিম পুরুষকে চড় মেরেছেন।’ (অনূদিত)

এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘উত্তরপ্রদেশের বুদাউনে জেলার রুদায়ন এলাকায় এক বৃদ্ধসহ তিনজন মুসলিম পুরুষকে চড় মারা ও কটূক্তি করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ার পর এই গ্রেপ্তার করা হয়। ভিডিওতে অভিযুক্ত অক্ষয় সিংহকে ওই বৃদ্ধ মুসলিম ব্যক্তিসহ আরও দুজনকে বারবার চড় মারতে দেখা যায়।’ (অনূদিত)

এরই সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে ভারতীয় আরেক সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক ভাস্কর’ এর ওয়েবসাইটে গত ২০ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে আলোচিত ঘটনার দৃশ্যের সংযুক্তি পাওয়া যায়। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘(ভারতের উত্তর প্রদেশের) ইসলামনগর থানার রুদায়ান শহরে তুচ্ছ এক বিরোধকে কেন্দ্র করে তিনজনকে মারধরের ঘটনা সামনে এসেছে। একটি স্কুটার চালানো এক যুবক ওই তিনজনকে মারধর করে। ঘটনাটি ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর প্রায় ২টার দিকে ঘটে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।.. প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অভিযুক্ত অক্ষয় কুমার রাস্তায় তিন ভুক্তভোগীকে গালিগালাজ করে তাড়া করে এবং মারধর করে। রাস্তার মাঝখানে এই হট্টগোলে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তিন ভুক্তভোগী সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে নিজেদের প্রাণ বাঁচান।’ (স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনূদিত)

এছাড়াও, আরো একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এ বিষয়ে একইরকম তথ্য জানা যায়।

অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওর সাথে প্রচারিত রাজনৈতিক দাবিগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রকৃতপক্ষে ভিডিওটি বাংলাদেশেরই নয় বরং ভারতের।

সুতরাং, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ওয়াজ করায় ইমাম-মুয়াজ্জিনকে মারধর এবং গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক বলায় জামায়াত নেতাদের ওপর ছাত্রদল নেতার হামলার ঘটনার দৃশ্য দাবিতে ভারতের একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: