রামিসা হত্যায় অভিযুক্ত সোহেলের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ছবিযুক্ত ভাইরাল ফেস্টুনটি সম্পাদিত

দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে পাশের ফ্ল্যাটে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং অভিযুক্ত সোহেল রানার ছবি সংযুক্ত করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে একটি প্রচারণামূলক ফেস্টুনের ছবি ছড়িয়ে পড়ে।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত ফেস্টুনের ছবিটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, একটি ভিন্ন ফেস্টুনের ছবি ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে সেখানে সোহেল রানার ছবি সংযোজন করে তা আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর অনলাইন গণমাধ্যম ঢাকা মেইলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘তফসিলের ৭২ ঘণ্টা পরও ঝুলছে প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুন’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে ব্যবহৃত একটি ছবির সঙ্গে আলোচিত ফেস্টুনের ছবির উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য রয়েছে। উভয় ছবিতে ফেস্টুনটির অবস্থান, পেছনের দুইটি ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং ফ্রেমের গঠন সম্পূর্ণ মিল পাওয়া গেলেও মূল ফেস্টুনে অভিযুক্ত সোহেল রানার কোনো ছবি ছিল না। অর্থাৎ, মূল ছবিটি সম্পাদনা করে সেখানে সোহেল রানার ছবি সংযোজন করে প্রচার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে প্রচারিত ফেস্টুনটিতে সোহেলের নাম লেখার ধরনেও অসামঞ্জস্য ও অস্বাভাবিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়। ফন্টের বিন্যাস, লেখার অবস্থান এবং ডিজাইনের সামগ্রিক সামঞ্জস্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নামটি মূল ফেস্টুনের অন্যান্য অংশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সুতরাং, সোহেল রানা ও আমিনুল হকের ছবিযুক্ত ফেস্টুনের ছবিটি সম্পাদিত।

