গত ৫ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক শিশুকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে। এরই প্রেক্ষিতে, উক্ত ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসী মুসলিম দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়েছে।
এক্সে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি মুসলিম নাগরিক নেই। প্রকৃতপক্ষে, ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন ভারতীয় হিন্দু প্রভাস মণ্ডল, আনন্দ সরদার ও দিবাকর সরদার।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে, ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ওয়েবসাইটে গত ৭ জুলাই ‘Baruipur on edge, 3 arrested for rape-murder of girl child, CM says justice will be delivered’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত আনন্দ সর্দার, প্রভাষ মণ্ডল ও দিবাকর সর্দারকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৫ জুলাই বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় একটি পুকুর থেকে ওই শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে এক ব্যক্তি নিহত হন। এছাড়া সহিংসতায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
পরবর্তীতে, টাইমস অফ ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৮ জুলাই উক্ত ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রভাষ মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হন।
সুতরাং, পশ্চিমবঙ্গের ধর্ষণকাণ্ডের অভিযুক্ত হিন্দুদের বাংলাদেশি মুসলিম দাবি করে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- The Indian Express – Baruipur on edge, 3 arrested for rape-murder of girl child, CM says justice will be delivered
- The Hindu – Three held for Baruipur rape and murder; govt. will ensure capital punishment is awarded, says CM
- The Times of India – How Baruipur rape-murder accused Prabhash Mondal was killed in an encounter


