ইয়াবাসহ গ্রেফতার নারীর ভাইরাল ছবিটি এআই দিয়ে সম্পাদিত 

সম্প্রতি, মাদকবিরোধী অভিযানে বগুড়ায় ৪০ পিস ইয়াবাসহ ছালেহা আক্তার নামের একজন তরুণীকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) গ্রেফতার করেছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ও তথ্য প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

একাধিক নিউজ পোর্টালেও আলোচিত এই ছবিটি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এসব নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বগুড়ায় ৪০ পিস ইয়াবাসহ এক নারীকে গ্রেফতারের তথ্য সঠিক হলেও প্রচারিত ছবির নারী গ্রেফতার হওয়া নারী নন। প্রকৃতপক্ষে, গ্রেফতারকৃত নারীর ছবি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে সেটিতে তরুণীর চেহারা যুক্ত করে আলোচিত ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে দৈনিক আজকের জনবাণী নামের একটি নিউজ পোর্টালে একই ঘটনায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, গত ৭ জুন বগুড়া শহরের নিশিন্দারা মন্ডলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ছালেহা আক্তার নামের এক নারীকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তার স্বামী, অভিযুক্ত মাদক কারবারি আব্দুস সোবহান পালিয়ে যান। তবে উক্ত প্রতিবেদনে ব্যবহৃত নারীর ছবির সাথে আলোচিত ছবির নারীর পোশাক, দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গি এমনকি পারিপাশ্বিক অবস্থার হুবহু মিল থাকলেও উভয়ের চেহারার পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। আলোচিত ছবিটিতে দেখতে পাওয়া নারী একজন তরুণী অপরদিকে উক্ত প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর।

তাই উভয় ছবি সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করে দেখে রিউমর স্ক্যানার। পর্যালোচনায় লক্ষ্য করা যায়, আলোচিত ছবিতে দেখতে পাওয়া তরুণীর পেছনে থাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোগোর নিচের অংশ লেখাটি বিকৃত। তবে সেটির সাথে হিন্দি বর্ণমালার কিছুটা মিল লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত ছবিতে লেখার ক্ষেত্রে এধরনের বিকৃতি লক্ষ্য করা যায়।

পরবর্তীতে ওপেন এআই টুলসের মাধ্যমে ছবিটি যাচাই করে দেখা যায়, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি এবং এতে ওপেন এআই থেকে জেনারেট হওয়া সিন্থআইডির ওয়াটারমার্কেরও অস্তিত্ব রয়েছে।

অর্থাৎ, আলোচিত ছবিটি আসল নয়। মূল ছবিকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে তৈরি করা হয়েছে।

এবিষয়ে জানতে বগুড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জিললুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিউমর স্ক্যানারকে গ্রেফতারকৃত নারীর মূল ছবি সরবরাহ করে জানান, গণমাধ্যমে তাদের পক্ষ থেকে যে ছবি সরবরাহ করা হয়েছে সেখানে ওই নারীর মুখমণ্ডল ব্লার করা ছিল। ফলে তার চেহারা প্রকাশ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ছবিটি পরবর্তীতে কেউ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদনা করে প্রচার করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সুতরাং, বগুড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ তরুণীকে গ্রেফতার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: