গত ০৫ এপ্রিল ভোলায় আটক করা হয় সাওদা সুমি নামে এক মধ্যবয়সী নারীকে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের ফেসবুক পেজের এক পোস্টে সুমিকে তাদের দলের কর্মী দাবি করে তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানায়। সুমি আটকের পরপরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনামুখর হয়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। কেউ বলছিলেন, সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। কারো দাবি ছিল, ভুয়া ফটোকার্ড প্রচারের কারণে তিনি আটক হন। জ্বালানী সংকটে সরকারের সমালোচনা করায় তিনি আটক হয়েছেন, এমন দাবিও করেছেন কেউ কেউ। এর মধ্যে ৭ এপ্রিল সুমিকে জামিন দেন আদালত। মুক্তি মেলে তার।
জামিনে মুক্তির আগে সুমির বিষয়ে সেদিন সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান দাবি করেন, সুমির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেটি প্রত্যাহার করতে হবে। এই দাবির বিষয়ে যাচাই করার জন্য রিউমর স্ক্যানার এ সংক্রান্ত অভিযোগপত্রটির একটি কপি সংগ্রহ করেছে। ভোলা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এসআই (নিঃ) মোঃ জুয়েল হোসেন খানের লেখা অভিযোগে বলা হয়, বিবি সাওদা (সাওদা সুমি) নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে জিডি থাকার ভিত্তিতে আটক করে পুলিশ। অভিযোগপত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়, অভিযুক্ত তার Sawoda Sumi নামের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে রাষ্ট্র এবং সরকার বিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সুমির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করেও সরকার, সরকারপ্রধান আর সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে সমালোচনা করে একাধিক পোস্ট দেখেছে রিউমর স্ক্যানার। অভিযোগপত্রে সুমির বিরুদ্ধে কোনো মামলার বিষয়ে উল্লেখ পাওয়া যায়নি৷ অর্থাৎ, মামলা হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা সঠিক নয়।
প্রশ্ন হচ্ছে, সুমি কি ভুয়া ফটোকার্ড বা গুজব ছড়িয়েছিলেন? এটি যাচাই করতে গিয়ে গেল এক মাসে সুমির করা পোস্টগুলো বিশ্লেষণ করেছে রিউমর স্ক্যানার৷ গত ০৮ মার্চ থেকে আটক হওয়ার পূর্ব সময় (০৫ এপ্রিল) পর্যন্ত সুমির অন্তত এমন ছয়টি পোস্টের সন্ধান পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার, যেগুলো যাচাই করে অপতথ্যের প্রমাণ মিলেছে।
আটক হওয়ার আগের দিন, ০৪ এপ্রিল সুমি একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেন, যাতে লেখা ছিল, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (শিল্প মন্ত্রণালয়) ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী “বাসাবাড়িতেও সন্ধ্যার পরে অকারণে লাইট, ফ্যান ব্যবহার করা যাবে না। তদারকিতে থাকবে ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মী।” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন। অথচ, তিনি এমন কোনো মন্তব্যই করেননি। Gupto Television নামে একটি সার্কাজম পেজের পোস্ট সূত্রে দাবিটি ছড়ায়।
২৯ মার্চ জ্বালানী সংকটের প্রেক্ষাপটে তেল কেনার অপেক্ষায় তেলের পাম্পে রাস্তায় ঘুমাচ্ছে মানুষ দাবি করে এআই দিয়ে তৈরি ছবি পোস্ট করেন তিনি।
২৭ মার্চ “অবশেষে কলকাতার রাস্তায় দেখা গেছে ২৪ এর গণ হ ত্যা কারী আটার বস্তা শিরিন শারমিনকে। সবাই তাহলে ওপারে পৌঁছে গেছে নিরাপদে!!” শিরোনাম দিয়ে সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিনের একটি ছবি পোস্ট করেন সুমি। অথচ, রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখেছে, ফুটেজটি ২০২৪ সালের। শিরিন শারমিন গত ০৭ এপ্রিল রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
২৬ মার্চ সুমি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের মন্তব্য দাবিতে ছড়ানো একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেন। দাবি করা হচ্ছিল, শামা ওবায়েদ বলেছেন, “ইন্ডিয়ার সাথে আমাদের চোখ নিচু করেই কথা বলতে হবে, এই যে যেমন এখন ইন্ডিয়ার হাতে পায়ে ধরে তেল আনতে হচ্ছে, গাধার মত “দিল্লি না ঢাকা” স্লোগান দিলেই তো হবে না, বুঝতে হবে যে ইন্ডিয়ার সাথে ঝামেলা করলে আমাদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ে যাবে।” আদতে এমন কোনো মন্তব্যই করেননি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তার নামে এই মন্তব্যটি প্রথমে ছড়ানো হয় নিজেদের ব্যঙ্গাত্মক পেজ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ‘ব্যঙ্গবাজার’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে। পরবর্তীতে ওই ভুয়া ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্টটিকেই তার আসল মন্তব্য হিসেবে প্রচার করা হয়।
২৩ মার্চ সাওদা সুমি আরেকটি ফটোকার্ড পোস্ট করেন। ফটোকার্ডের শিরোনামে বলা হচ্ছে, “ভারতের সম্মতি ছাড়া বাংলাদেশের ডিফেন্সের জন্য কোনো যুদধ বিমান আধুনিক অন্ত্র বা সরঞ্জাম ক্রয় করতে পারবে না, বললেন আসাম মুখ্যমন্ত্রী!” মজার ব্যাপার হচ্ছে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ছবি ব্যবহার না করে ফটোকার্ডে ব্যবহার হচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছবি! রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, এমন কোনো মন্তব্য করেননি ভারতের ক্ষমতাসীন কোনো ব্যক্তি। যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে তিন শর্ত দেয় ভারত — এমন একটি দাবি প্রথমে ভারতের পত্রিকা আনন্দবাজারের বরাত দিয়ে, এরপর দাবিটির একাংশ (যুদ্ধবিমান ক্রয় সংক্রান্ত) ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তারপর আসামের মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য হিসেবে ছড়ানো হয়। সম্প্রতি ফের দাবিটি ছড়াতে শুরু করে।
০৮ মার্চ সুমির প্রচার করা আরেক ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ বলেছেন, ‘যারা নামায পড়ে তাদের বলে উগ্রবাদী আর যারা নেংটা হয়ে নাচে তাদের বলে ভালো মুসলমান।’ অথচ, মন্তব্যটি তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থা বোঝাতে করেছিলেন।
অর্থাৎ, গুজব প্রচারে সার্কাজম পোস্ট, এআই কনটেন্ট, পুরোনো ফুটেজ, ভুয়া মন্তব্যের দ্বারস্থ হতে হয়েছে সাওদা সুমিকে।
মুদ্রার উল্টোপিঠও দেখতে হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক আলোচনায় আসা এই নারীকে।
০৭ এপ্রিল মধ্যরাতে কবীর চৌধুরী তন্ময় নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে প্রচার করা হয়, যাত্রাবাড়ীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন সুমি। কাছাকাছি সময়ে কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, দেশের জ্বালানি সংকটে লাইট জ্বালিয়ে দেহ ব্যবসা করায় জামায়াতের এই কর্মীকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। অথচ, সুমি আটক হন ভোলায় নিজ বাসা থেকে। সেখানে তিনি তার পরিবারের সাথে থাকতেন।
শুধু এমন দাবিগুলোই নয়, বিবি সাওদাকে জড়িয়ে ভুয়া ছবি তৈরি-সম্পাদনার ঘটনাও ঘটেছে। সমুদ্র সৈকতে হিজাব ও চশমা পরা অবস্থায় শাড়ি পরে এক নারী দাঁড়িয়ে আছেন– এমন একটি ছবি প্রচার করে উক্ত নারীকে বিবি সাওদা বলে দাবি করা হয়। ছবিটি রিভার্স সার্চ করে এবং পরে সুমির ফেসবুক প্রোফাইলে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। তার স্বামী জানিয়েছেন, এটি তার স্ত্রীর ছবি নয়। ছবিটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি কি না তা যাচাই করতে রিউমর স্ক্যানার গুগলের বিশেষ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ‘SynthID’ ব্যবহার করে। বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি গুগলের এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি বা সম্পাদিত। সুমির ইনস্টাগ্রাম এবং থ্রেডসের প্রোফাইলে একই পোশাক ও ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা একটি ছবি পাওয়া যায়। এই ছবিটি ব্যবহার করেই আলোচিত ছবিটি বানানো হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
‘সাওদা সুমির সাথে জামাত আমিরের ভিডিও কলের স্ক্রিনশট ফাঁস’ ক্যাপশন দিয়ে আরেকটি ছবিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখেছে, এটিও গুগলের এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি একটি স্ক্রিনশট। এর পাশাপাশি সার্কাজম এবং ট্রল ঘরানার ফেসবুক পেজগুলোর ভুয়া কনটেন্টের লক্ষ্যবস্তুতে (১, ২, ৩, ৪, ৫) পরিণত হয়েছেন এই নারী।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন যে দলের নারীরা অপতথ্যের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন তখন বিরোধী দলের নারী থেকে শুরু করে সমসাময়িক আলোচনায় থাকা নারীদেরও জড়ানো হয় অপপ্রচারের স্রোতে। বিবি সাওদার এই ঘটনা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
সাওদাকে জড়িয়ে সম্পাদিত এবং এআই ছবির পোস্টগুলোতে আসা কমেন্ট পর্যালোচনা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমানসহ একাধিক নারী ব্যক্তিত্বের একইভাবে এআই দিয়ে সম্পাদিত ছবি কমেন্ট আকারে দিতে দেখা গেছে। কমেন্টের এই অপপ্রচারে যোগ দিয়েছেন বিবি সাওদার স্বামী এএইচ বাবলুও। তিনি তার একটি পোস্টের কমেন্টে একটি ফটোকার্ড দিয়েছেন, যাতে লেখা রয়েছে, “গাজীপুরে বিএনপির ওয়ার্ড সেক্রেটারির স্ত্রীর ছবিকে জামায়াত নেত্রী বানিয়ে প্রচার করেছে বিএনপি। স্থানীয় ঐ নেতার ক্ষোভ।” এই ফটোকার্ডটি পোস্টও করতে দেখা গেছে অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারীকে। অদ্ভুতুড়ে বিষয় হচ্ছে, ফটোকার্ডে বাবলুর নিজের স্ত্রীর একটি আসল ছবিই রয়েছে, অন্যটি এআই সম্পাদিত। এই দুই ছবিকেই বিএনপির জনৈক নেতার স্ত্রীর ছবি বলে প্রচার করছেন তিনি।

অপপ্রচারের পাল্টাপাল্টি এই ক্যাম্পেইনে ব্যবহার হচ্ছে ভুয়া ফটোকার্ডও। বাংলাভিশনের একটি নকল ফটোকার্ডে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের মাকে জড়িয়ে ভুয়া দাবি সংক্রান্ত বিএনপির একজন কর্মীর একটি পোস্টের শিরোনামে বলা হচ্ছে, বিরোধীপক্ষ বাকস্বাধীনতা শুরু করলেও এটা শেষ করবেন তারা।

কাছাকাছি সময়ে সালাহউদ্দিন আম্মারের সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতুর এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবি নাফিয়াল আবীর খান নামে এক ব্যক্তির প্রোফাইল থেকে পোস্ট করে দাবি করা হয়, এটি কক্সবাজারের একটি হোটেলের দৃশ্য। এই পোস্টেই ছবিটিতে মিতুর স্থলে জাইমা রহমানের ছবি বসিয়ে পাল্টা কমেন্ট করা হচ্ছে।

কিছু পোস্টে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আম্মারকে জড় ধরেছেন সুমি দাবিতে এআই দিয়ে তৈরি আরেকটি ছবিও প্রচার করা হয়।
এই ক্যাম্পেইনে সালাহউদ্দিন আম্মারও টার্গেটেড হওয়ার পেছনের কারণ মূলত তার একটি পোস্ট। ০৭ এপ্রিল সাওদা সুমির ইস্যুতেই তিনি তারেক রহমানের একটি বিকৃত ছবি পোস্ট করেন। সমালোচনা শুরুর পর পোস্টটি সরিয়ে নেন তিনি।

নাফিয়াল আবীর খান নামে একই ব্যক্তির ফেসবুক প্রোফাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম ও ঢাবির সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন মোনামীর একটি আপত্তিকর ভুয়া ছবি ছড়িয়েও বাক-স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টানা হয়েছে।

এই ক্যাম্পেইনে Nationalist Ultras নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ক্রমাগত এআই দিয়ে তৈরি ছবি প্রচার করা হচ্ছে যার শিকার হয়েছে ডা. মাহমুদা মিতু, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর স্ত্রী, এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন, ফাতিমা তাসনিম জুমা, শেহরীন আমিন মোনামী, জামায়াতের নেত্রী ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মারদিয়া মমতাজ প্রমুখ।

বাংলাদেশে রাজনীতিসহ বিভিন্ন অঙ্গনের নারীদের লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি এডাল্ট, বিকৃত ও ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা ক্রমেই উদ্বেগজনক মাত্রা নিচ্ছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত মানহানি নয়, বরং একটি বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকেত। প্রযুক্তির অপব্যবহার, বিশেষ করে এআই–নির্ভর ছবি ও ভিডিও সম্পাদনার কারণে নারীদের সম্মানহানি, চরিত্রহনন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার ঘটনা বাড়ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব কনটেন্টের উদ্দেশ্য থাকে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক আক্রমণ, প্রতিপক্ষকে বিব্রত করা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত মনোযোগ কাড়ার চেষ্টা। এর ফলে শুধু ব্যক্তি নয়, সামগ্রিকভাবে নারীর নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ভুক্তভোগী নারী শুধু অনলাইন হয়রানির শিকার হচ্ছেন না, অনেক ক্ষেত্রে তার পেশাগত, সামাজিক ও মানসিক জীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


