শেখ হাসিনা ও ড. ইউনূসকে জড়িয়ে শি জিনপিংয়ের বক্তব্য দাবিতে এআই নির্মিত ভিডিও প্রচার 

সম্প্রতি ‘শেখ হাসিনাই বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ডক্টর ইউনূস অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে আছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এতোটাই খারাপ যে সেখানে বিনিয়োগ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া কোন বিনিয়োগ করবো না।’ শিরোনামে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে উদ্ধৃত করে তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া অবধি ফেসবুকে প্রচারিত সর্বাধিক ভাইরাল ভিডিওটি প্রায় ২৮ হাজার বার দেখা হয়েছে, এটিতে প্রায় ২১ শত পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে এবং ভিডিওটি প্রায় ৫ শত বার শেয়ার করা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জড়িয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি একটি ভিডিওকে আসল দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শেখ হাসিনা ও ড. ইউনূসকে জড়িয়ে বাংলাদেশকে উদ্দেশ্য করে কোনো বক্তব্য দিলে তা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ঢালাওভাবে প্রচারিত হওয়ার কথা। কিন্তু, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে এতে কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়; যেমন- ভিডিওটির অডিওতে একাধিক ভিন্ন কন্ঠস্বর রয়েছে, কন্ঠস্বরের বাচনভঙ্গিতে কৃত্রিমতা রয়েছে।

ভিডিওটির বিষয়ে অধিকতর নিশ্চিত হতে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘DeepFake-O-Meter’ এর ‘AVSRDD (2025)’ মডেলের মাধ্যমে ভিডিওটি পরীক্ষা দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।

এছাড়া, এআই অডিও কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম Resemble AI এ ভিডিওটির অডিও যাচাই করা হলে সেটিকে ‘Fake’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়া, আলোচিত ভিডিওচিত্রটির বিষয়ে অনুসন্ধানে চীনের গণমাধ্যাম চাইনিজ সেন্ট্রাল টেলিভিশনের ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ‘Xi meets Chinese diplomatic envoys to foreign countries’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত একটি ছবির সাথে আলোচিত ভিডিওটির দৃশ্যের মিল রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিভিন্ন রাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের কূটনৈতিক দূতদের সাক্ষাৎ করেন। উক্ত আয়োজনে তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বিষয়ে কথা বলার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

উক্ত প্রতিবেদনে আলোচিত ভিডিওটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত ছবিটি ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

সুতরাং, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়েএ বক্তব্য দাবিতে এআই-নির্মিত ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: