ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ইরানের মিসাইল দাবিতে ছড়ালো ইয়েমেনের পাইপলাইনের ছবি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এঘটনায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা চলমান। এরই প্রেক্ষিতে, ‘ই/স’রা/য়ে’লের বিরুদ্ধে ৭০ বছর পুরোনো মিসাইল ব্যবহার করছে ইরান! সেই মিসাইল আঘাত হেনেছে ই/স’র/য়ে’লের বুকে’ শিরোনামে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ছবিটি ইরান কর্তৃক ইসরায়েলে হামলায় ব্যবহৃত মিসাইলের ছবি নয় বরং, এটি ইয়েমেনের বিভিন্ন শহরের পানি সরবরাহের জন্য ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি পাইপলাইনের ছবি।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলেও আলোচিত দাবির সপক্ষে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে, ২০১৮ সালে জুন মাসে ইয়েমেনের এডেন শহর ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘adenkhbr.net’ এ একটি সংবাদ প্রতিবেদনে আলোচিত ছবিটি খুঁজে পায় রিউমর স্ক্যানার। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি ইয়েমেনে পানি সরবরাহের জন্য তৈরি পাইপলাইনের।

প্রতিবেদনটি থেকে আরও জানা যায়, ইয়েমেনের বারজাখ জলাধার থেকে জাবাল হাদিদ জলাধার পর্যন্ত বিস্তৃত প্রধান পানি সরবরাহের পাইপলাইনটি ১৯৫৬ সালে নির্মিত হওয়ায় বর্তমানে তা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। এই পুরনো পাইপলাইনের কারণে ক্রেটার, মুআল্লা, তাওয়াহি ও কালুয়া জেলাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নিয়মিত পানি পান না এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতি ৭২ ঘণ্টায় মাত্র ১২ ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা হয় যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

অন্যদিকে, ইরান সর্বপ্রথম মিসাইল কর্মসূচি চালু করেছিল ১৯৮৪ সালের আগস্টে।

সুতারাং, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ইরানের মিসাইল দাবিতে ইয়েমেনের পাইপলাইনের ছবি প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: