ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করেছেন শীর্ষক দাবি মিথ্যা 

গত ফেব্রুয়ারিতে অনলাইনে কথিত সংবাদ প্রতিবেদন প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘ডঃ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রহী মামলা করলো রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন’। এছাড়াও, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ইউটিউব ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। 

এরূপ দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত উপরোল্লিখিত পোস্টটি এককভাবে ১ লক্ষ ১০ হাজারেরও অধিক বার দেখা হয়েছে এবং ৭ হাজারেরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটিতে লাইক দেওয়া হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার দাবি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ভিন্ন নানা অপ্রাসঙ্গিক ঘটনার ভিডিও প্রচার করে আলোচিত দাবি প্রচার করে হয়েছে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে আটক করা হয়নি।

আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিও পর্যবেক্ষণ করলে তাতে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। ভিডিওতে বলা হয়, ড. ইউনূস ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি নানা অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘কালের কণ্ঠ’ এর ওয়েবসাইটে কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী ও বিশেষ প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীনকে দেওয়া রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার গত ২৩ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ হতে দেখা যায়। সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতিকে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিষয়ে নানা অভিযোগ, অভিমান ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে দেখা যায়। তবে সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার কোনো ঘোষণা দিতে দেখা যায়নি।

এছাড়াও, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহসিন রশীদ। এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এর ওয়েবসাইটে গত ২৪ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মোহসিন রশীদ। তিনি দাবি করেন, ইউনূসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, বরং রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে পড়ে। সরকার ব্যবস্থা না নিলে তিনি নিজেই আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার ইউটিউব চ্যানেল ‘মানচিত্র’-এ অংশ নিয়ে মোহসিন রশীদ এসব মন্তব্য করেন। মোহসিন রশীদ আরও বলেন, সরকার যদি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন না করে, তবে তিনি নোটিশ দিয়ে নিজেই মামলার উদ্যোগ নেবেন এবং ড. ইউনূসকে পক্ষভুক্ত করবেন।

এ বিষয়ে ‘মানচিত্র’ ইউটিউব চ্যানেলে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার সাথে মহসিন রশিদের ভিডিওটি পাওয়া যায়। ভিডিওতে মহসিন রশিদকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উল্লেখ করতে দেখা যায়।

তবে কোথাও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেছেন এরূপ দাবির সপক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পাশাপাশি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত কথিত প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাজুল ইসলামের বিষয়ে নানা গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। তার বদলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, তাজুল ইসলামকে গ্রেফতারের বিষয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে শীর্ষক দাবি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: